বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) -ছবি : সংগৃহীত
চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করা ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজীর মধ্যে বিতরণ করা হবে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা। সৌদি আরবে হজ কার্যক্রমের বিভিন্ন খাতে ব্যয় কম হওয়ায় অব্যয়িত এই অর্থ হাজীদের ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়েকোবাদ)। এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী হাজীদের মধ্যে ১০ জনের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরতের অর্থের চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। অন্য হাজীদের প্রাপ্য অর্থও একই দিন তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর কথা জানানো হয়।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজী সম্মিলিতভাবে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত পাবেন। তবে চিকিৎসা ব্যয় বিমার নির্ধারিত অর্থের চেয়ে বেশি হওয়ায় ২৩ জন হাজী কোনো অর্থ ফেরত পাবেন না।
হাজীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রতারণার আশঙ্কায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি বলেন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো অর্থ বা সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে তা সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়।
এ জন্য মন্ত্রণালয়ের পরিচয়ে কেউ ফোন করে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, বিকাশ, নগদ কিংবা রকেটের পিন নম্বর চাইলে সেটিকে প্রতারণা হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দেন তিনি। এ ধরনের ব্যক্তির কাছ থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান ধর্মমন্ত্রী।
ধর্মমন্ত্রী জানান, বাড়িভাড়া ও সার্ভিস চার্জসহ হজের কয়েকটি খাতে ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছে। ২০২১ সালের হজ প্যাকেজে বাড়িভাড়ার জন্য যে অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছিল, এবার তার তুলনায় কম খরচে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে সার্ভিস চার্জও কিছুটা কমানো হয়।
এরই মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৬ সালের হজের প্রতিটি প্যাকেজের খাতভিত্তিক ব্যয়ের হিসাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, ২০২৬ সালের হজে বিমানভাড়া আগের বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো হয়েছিল। আগামী ২০২৭ সালের হজে বিমানভাড়া আরও কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট তিনটি হজ প্যাকেজ ছিল। প্যাকেজ ও আবাসনের ধরন অনুযায়ী হাজীদের ফেরত পাওয়ার অর্থের পরিমাণে পার্থক্য রয়েছে।
হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ): হোটেল বুল্লরা আল দুররায় অবস্থানকারী পূর্ণ প্যাকেজের হাজীরা জনপ্রতি ৩৮ হাজার ৬৯৭ টাকা ৩২ পয়সা এবং শর্ট প্যাকেজের হাজীরা ৪৬ হাজার ৮৮৮ টাকা ৪০ পয়সা ফেরত পাবেন।
দুই সিটের আপগ্রেডেশন নেওয়া হাজীদের জনপ্রতি ফেরত দেওয়া হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯০ টাকা ৫৬ পয়সা। একই সঙ্গে দুই সিটের আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজ নেওয়া হাজীরা পাবেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ টাকা ৭১ পয়সা।
তিন সিটের আপগ্রেডেশনের ক্ষেত্রে জনপ্রতি ফেরত ১ লাখ ১৮ হাজার ৭২ টাকা ৮২ পয়সা। আর তিন সিটের আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজের হাজীরা ফেরত পাবেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৫ টাকা ৫৩ পয়সা।
হজ প্যাকেজ-২: মক্কা হজ মিশনের কাছাকাছি ২, ৩ ও ৪ নম্বর বাড়িতে থাকা হাজীদের ফেরতের পরিমাণও আলাদা।
হোটেল লুলুয়াত আল তাওহিদে অবস্থানকারী সাধারণ প্যাকেজের হাজীরা জনপ্রতি ২ হাজার ৫০৫ টাকা ৪৯ পয়সা এবং শর্ট প্যাকেজের হাজীরা ৮ হাজার ৭৩০ টাকা ৭০ পয়সা ফেরত পাবেন।
দুই সিটের আপগ্রেডেশনের ক্ষেত্রে ফেরত দেওয়া হবে ৬২ হাজার ৩৩১ টাকা ৭৯ পয়সা। আর দুই সিটের আপগ্রেডেশনসহ শর্ট প্যাকেজের হাজীরা পাবেন ৭৮ হাজার ৭১৩ টাকা ৯৪ পয়সা।
তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজীরা ৩ হাজার ২৮৭ টাকা ৩৬ পয়সা এবং একই আপগ্রেডেশনের শর্ট প্যাকেজের হাজীরা ৮ হাজার ৪৩১ টাকা ৩৬ পয়সা ফেরত পাবেন।
হোটেল রাওদাত আল শুরুকে থাকা সাধারণ প্যাকেজের হাজীদের ফেরত ৩ হাজার ৯৭৯ টাকা ৮৮ পয়সা। শর্ট প্যাকেজে ১২ হাজার ১৭০ টাকা ৯৫ পয়সা, দুই সিটের আপগ্রেডেশনে ৪ হাজার ৩৭৬ টাকা ৬৬ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশনে ৪৪ হাজার ১১৯ টাকা ৮৭ পয়সা ফেরত দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, হোটেল মানার আল শুরুকে অবস্থানকারী হাজীরা জনপ্রতি ৭ হাজার ৪১৪ টাকা ২৩ পয়সা ফেরত পাবেন। দুই সিটের আপগ্রেডেশনের ক্ষেত্রে ফেরতের পরিমাণ ৫ হাজার ৬৭৫ টাকা ৪৩ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশনে ৬ হাজার ২৪৯ টাকা ২৪ পয়সা।
হজ প্যাকেজ-৩: এই প্যাকেজের হাজীদের ৫ নম্বর বাড়ি তথা হোটেল নাম্বার ওয়ানে রাখা হয়েছিল। সেখানে অবস্থানকারী পূর্ণ প্যাকেজের প্রত্যেক হাজী ৩ হাজার ৭১৮ টাকা ৯ পয়সা ফেরত পাবেন। এ প্যাকেজে শর্ট প্যাকেজ বা আপগ্রেডেশনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না।