বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত নতুন মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ অনুমোদনের শেষ ধাপে পৌঁছেছে। সব প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন রুট)’ প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে।
প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে বর্তমান সরকারের সময়ে নতুন মেট্রোরেল নির্মাণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।
প্রস্তাবিত মেট্রোরেলটির মোট দৈর্ঘ্য ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে। এর মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মোকছেদ আলী জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের একনেক সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সভায় অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, গাবতলী থেকে আফতাবনগর পর্যন্ত ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার অংশ মাটির নিচ দিয়ে নির্মাণ করা হবে। এরপর আফতাবনগর সেন্টার থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার অংশ হবে উড়ালপথ।
পুরো করিডরে নির্মাণ করা হবে ১৫টি স্টেশন। এর মধ্যে ১১টি থাকবে পাতাল এবং চারটি উড়াল স্টেশন।
প্রস্তাবিত স্টেশনগুলো হলো গাবতলী, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, রাসেল স্কয়ার, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর, আফতাবনগর সেন্টার, আফতাবনগর পূর্ব, নাসিরাবাদ ও দাশেরকান্দি।
এই মেট্রোরেল চালু হলে রাজধানীর পশ্চিম প্রান্তের গাবতলী থেকে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকা হয়ে পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর সঙ্গে দ্রুত ও সরাসরি গণপরিবহন যোগাযোগ গড়ে উঠবে।
বিশেষ করে শ্যামলী, আসাদ গেট, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও ও আফতাবনগরের মতো ব্যস্ত এলাকার সঙ্গে গাবতলীর যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে বৈদেশিক অর্থায়নের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা না করে প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নিতে চায় ডিএমটিসিএল।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমি অধিগ্রহণে প্রায় এক থেকে দেড় বছর সময় লাগতে পারে। এই সময়ের মধ্যেই দরপত্রসহ অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর শুরু হবে মূল নির্মাণকাজ।
প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব জানান, ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় সরকার বহন করবে। ফলে বৈদেশিক ঋণ পেতে কিছুটা সময় লাগলেও প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
তিনি জানান, শুধু টানেল নির্মাণেই প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। তাই প্রকল্পের শুরুতেই টানেল নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে প্রকল্পের কয়েকটি প্যাকেজের দরপত্র প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। সিপি-১ থেকে সিপি-৪-এর চূড়ান্ত দরপত্রের নথি প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এসব নথিতে এডিবির সম্মতিও মিলেছে।
এ ছাড়া সিপি-৬ ও সিপি-৭-এর নথি বর্তমানে পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সিপি-৮ ও সিপি-৯-এর দরপত্রসংক্রান্ত নথিও প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।
একনেকে অনুমোদন পাওয়ার পর ভূমি অধিগ্রহণ, দরপত্র ও অন্যান্য প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে নিয়ে মূল নির্মাণকাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।