বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এন্ট্রি বা প্রবেশ পর্যায়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি কিংবা গভর্নিং বডির মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। গত ৩ আগস্ট নেওয়া এ-সংক্রান্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি বাতিল করে আগের কেন্দ্রীভূত পদ্ধতিই বহাল রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটি বরাবরের মতো বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমেই পরিচালিত হবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নিবন্ধন সনদধারীদের তালিকা থেকেই প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের আনুষ্ঠানিক সুপারিশ করবে এনটিআরসিএ। মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় এ নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
পূর্বের প্রতিষ্ঠিত কাঠামোর আলোকেই শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি (বাছাই পরীক্ষা), লিখিত পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষা—এই তিন ধাপের মূল্যায়ন অপরিবর্তিত থাকছে। শিক্ষকতার যোগ্যতা অর্জনে চাকরিপ্রার্থীদের এই তিনটি ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করে নিবন্ধন সনদ লাভ করতে হবে। পরবর্তীতে এই সনদধারীদের জাতীয় মেধা ও পছন্দের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাঠাবে এনটিআরসিএ। অর্থাৎ, সহকারী শিক্ষক পদে ম্যানেজিং কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদকে সরাসরি নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া নিয়ে যে তৎপরতা শুরু হয়েছিল, তা আর বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
এর আগে গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক বাছাইয়ের বিদ্যমান পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছিল, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’ অনুযায়ী এনটিআরসিএ কেবল শিক্ষক নিবন্ধন ও সনদ প্রত্যয়নের দায়িত্ব পালন করবে। ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুসরণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরাসরি শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করার এখতিয়ার সংস্থাটির থাকবে না। সেই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে এনটিআরসিএর অধীনে পরিচালিত কেন্দ্রীয় ও স্বচ্ছ মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগকাঠামো ভেঙে পড়ার গুরুতর শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছিল।
বর্তমানে সহকারী শিক্ষক পদে এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় পরীক্ষা ও সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ হলেও অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের মতো শীর্ষ প্রশাসনিক পদগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া এত দিন পরিচালনা কমিটির নিয়ন্ত্রণেই বহাল ছিল।
তবে সাম্প্রতিক সংস্কারের আওতায় শীর্ষ এসব পদেও মেধার ভিত্তিতে এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা প্রায় পাঁচ মাস আগে সম্পন্ন হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, শূন্য থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের স্থগিত মৌখিক পরীক্ষা খুব দ্রুতই সম্পন্ন করা হতে পারে। এ লক্ষ্যে মৌখিক পরীক্ষার ভাইভা বোর্ড গঠনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে এনটিআরসিএর সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তাসনিম জেবিন বিনতে শেখ প্রথম আলোকে জানান, মন্ত্রণালয়ের সভার আনুষ্ঠানিক কার্যবিবরণী বা রেজোল্যুশন তিনি এখনো হাতে পাননি। লিখিত রেজোল্যুশন প্রাপ্তির পরই এ সংক্রান্ত বিস্তারিত বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে অবহিত করা সম্ভব হবে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনটিআরসিএর এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবিকৃত বদলি প্রক্রিয়া আগে চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন না করে নতুন নিয়োগ সুপারিশ করা হলে প্রশাসনিক ও পদায়নজনিত জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে সার্বিক বদলি প্রক্রিয়া সফলভাবে নিষ্পত্তির পরই প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা এবং পরবর্তী নতুন শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার আয়োজন করা হতে পারে।