বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত
দীর্ঘ ৪২ বছর পর ‘বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা, ১৯৮৪’ সম্পূর্ণ সংশোধন ও পরিমার্জন করে নতুন ‘বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। নতুন এই বিধিমালাকে সম্পূর্ণ ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব করার পাশাপাশি এতে যাত্রীদের সেবার মানোন্নয়ন এবং আকাশপথে বেসামরিক বিমান চলাচলের সার্বিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। মঙ্গলবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্তকরণ সংক্রান্ত অংশীজনদের এক বিশেষ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত উল্লেখ করেন, দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় পর পুরোনো বিধিমালাটি যুগোপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে এই যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমান সরকার দেশের সার্বিক বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রসারিত করতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিচ্ছে, যার ফলে প্রণীতব্য নতুন বিধিমালাটি অবশ্যই শিল্পবান্ধব ও বিনিয়োগ সহায়ক হতে হবে। বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, এয়ারলাইন্সগুলো এই খাতের মূল অংশীজন হওয়ায় বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজতর করতে বিধিমালা চূড়ান্তকরণ প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী আরও জানান, সাধারণ যাত্রীদের বিমান ভ্রমণের মান উন্নত করার পাশাপাশি সামগ্রিক নিরাপত্তা মানদণ্ড নিশ্চিত করতে বিধিমালায় কঠোর ও প্রয়োজনীয় ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালনগত বাস্তবতা বিবেচনা করে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধার বিধানে বড় ধরনের সংস্কার আনা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিমানের জটিল যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়মিত মেরামত ও ওভারহলের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান নানা জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিমান সম্পদ সংক্রান্ত অর্থায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি লিজিংয়ের অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে ‘কেপটাউন কনভেনশন’-এর শর্তের আলোকে ‘ইররিভোকেবল ডিরেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড এক্সপোর্ট রিকোয়েস্ট অথরাইজেশন’ (আইডিইআরএ) সম্পর্কিত বিধান নতুন বিধিমালার অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও মন্ত্রী জানান। এছাড়া বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামোগত অগ্নিনিরাপত্তা সার্বক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে প্রতি তিন মাস পর পর বাধ্যতামূলক পরিদর্শন ও সমন্বিত মহড়া আয়োজনের কথা উল্লেখ করেন তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার উড়োজাহাজ যাতে দেশেই সহজে মেরামত করা যায়, সেজন্য বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল (এমআরও) ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা দেশকে একটি আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। এর পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে নতুন বেসামরিক বিমানবন্দর নির্মাণ ও সম্প্রসারণ প্রক্রিয়াও সহজ করার আশ্বাস দেন তিনি।
সভায় বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিগত প্রস্তাব তুলে ধরেন এবং নতুন বিধিমালার প্রস্তাবিত ধারাগুলো নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানসহ সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।