বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ফাইল ছবি
তীব্র গরমের মধ্যে দেশে আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে বিদ্যুতের ঘাটতি সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানার উৎপাদনেও।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৫টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৪৬৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১২ হাজার ৯৫২ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫১৭ মেগাওয়াট।
সন্ধ্যা ৬টায় ১৬ হাজার ৩৮৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৩৬২ মেগাওয়াট। তখন ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ২৭ মেগাওয়াট। সন্ধ্যা ৭টায় চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৫৪১ মেগাওয়াটে। সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ৫৩১ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ১০ মেগাওয়াট।
রাত সাড়ে ৭টার দিকে চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ৫৫১ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ নেমে আসে ১৫ হাজার ১৯ মেগাওয়াটে। এ সময়ও ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৫৩২ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান জ্বালানি গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারছে না।
পেট্রোবাংলার শনিবার রাত ৮টার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে ২১৯ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে এসেছে ১৬১ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে এসেছে ৫৮ কোটি ঘনফুট। কয়েক দিন আগেও এলএনজি থেকে ৭৫ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল।
রক্ষণাবেক্ষণকাজের জন্য সামিটের এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ ছিল। ফলে দিনের বড় একটি সময় এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। রাতে টার্মিনালটি চালু হওয়ার পর সরবরাহ কিছুটা বাড়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে নতুন এলএনজি কার্গো নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় দ্রুত সংকট কাটার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা। আগামী ১ ও ৪ সেপ্টেম্বর দুটি কার্গো পৌঁছানোর নিশ্চয়তা পাওয়া গেলেও এর আগে নির্ধারিত কয়েকটি কার্গো না আসায় গ্যাস সরবরাহে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
গ্যাসের পাশাপাশি কয়লার সংকটও বিদ্যুৎ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। কয়লা সংকটে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও ৫০০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রেরও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। তবে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
ঘাটতি সামাল দিতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল না থাকায় সব কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। ফলে গ্যাস, কয়লা ও তেল—তিন জ্বালানির সংকটই বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে।
গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার বৈদ্যুতিক চুলা, রাইস কুকার কিংবা ইন্ডাকশন ব্যবহার করছেন। কিন্তু রান্নার সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তৈরি হচ্ছে নতুন ভোগান্তি।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাতেও গ্যাসের স্বল্প চাপের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ভোরে কিছুটা গ্যাস পাওয়া গেলেও সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাপ কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। বাধ্য হয়ে অনেকে এলপিজি ব্যবহার করছেন, এতে বাড়ছে পারিবারিক ব্যয়।
শিল্পাঞ্চলেও সংকটের প্রভাব পড়েছে। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর বিভিন্ন কারখানায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে লোডশেডিং যোগ হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানকে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানি পণ্য সময়মতো সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গ্যাসের চাপ কম থাকায় সিএনজি স্টেশনগুলোতেও দীর্ঘ অপেক্ষার সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক স্টেশনে জ্বালানি নিতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো কঠিন। এর মধ্যে গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়লে পরিস্থিতি আরও নাজুক হতে পারে। দ্রুত উৎপাদন ও চাহিদার ব্যবধান কমানো না গেলে আগামী দিনগুলোতে লোডশেডিং আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।