বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান -ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব এলে তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, এখনো বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সদস্য দেশগুলো আগ্রহ প্রকাশ করলেই বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার বীর বিক্রম মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা জানতে চান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পাদিত মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হলে দেশের কী ধরনের সুবিধা হতে পারে এবং এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী।
জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিন দেশের মধ্যে হওয়া এই চুক্তিকে বাংলাদেশ ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় আসেনি। কারণ, নতুন কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত মূলত চুক্তির সদস্য দেশগুলোর আগ্রহ ও সম্মতির ওপর নির্ভর করবে।
তিনি জানান, প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলো বাংলাদেশকে সদস্য হওয়ার প্রস্তাব দিলে সরকার সেটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। তবে আমন্ত্রণ না আসা পর্যন্ত সম্ভাব্য সুবিধা বা অসুবিধা নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা করার প্রয়োজন নেই।
মক্কা প্যাক্টের সম্ভাব্য বিস্তৃতি সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে চুক্তিটি আরও বিস্তৃত হলে এটি মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষার একটি কাঠামো হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর মতে, এটি মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয় হওয়ায় এ নিয়ে অন্য পক্ষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
একই প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান তুলে ধরে ড. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ আর কারও কাছে মাথানত করে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে না। তিনি দাবি করেন, নতজানু পররাষ্ট্রনীতির অবসান ঘটিয়ে দেশের স্বার্থ ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান গত ৭ আগস্ট মক্কায় একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির আওতায় পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের কথা বলা হয়েছে।
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্বাক্ষরকারী তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর সম্মিলিত হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কাঠামোর মধ্যে চলে আসবে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই এতে আরও মুসলিম দেশ যুক্ত হতে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশও ভবিষ্যতে এতে অংশ নেবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে বিভিন্ন মত রয়েছে।
সমর্থকদের মতে, চুক্তিতে যুক্ত হলে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সহযোগিতা বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করছেন, কোনো প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
সরকারের বর্তমান অবস্থান হলো, আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাওয়ার পরই মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা হবে।