বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
আজ ১২ রবিউল আউয়াল। মুসলিম বিশ্বের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মরণে মুসলমানরা দিনটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করে থাকেন।
ইতিহাস অনুযায়ী, ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে আরবের মক্কা নগরীতে কুরাইশ বংশে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন আবদুল্লাহ এবং মা আমিনা। জন্মের আগেই তিনি পিতাকে হারান। ছয় বছর বয়সে মাতাকেও হারান মহানবী (সা.)।
৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে ৬৩ বছর বয়সে একই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন। দিনটি মুসলিমদের কাছে ঈদে মিলাদুন্নবী বা সিরাতুন্নবী (সা.) হিসেবে বিশেষ মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে।

পবিত্র এ দিনে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ শরিফ পাঠ, নফল নামাজ, দান-সদকা ও অন্যান্য ইবাদতের মাধ্যমে দিনটি কাটাবেন। অনেক মুসল্লি এ উপলক্ষে নফল রোজাও পালন করেন।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও এ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয়ভাবে দিনটি যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ সরকারি ছুটিও রয়েছে। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি রয়েছে।
এ ছাড়া রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কদ্বীপ ও লাইট পোস্টে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি কালিমা তায়্যিবা সম্বলিত ব্যানার টানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির বাণীতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে শান্তি, সাম্য, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়বোধ, দায়িত্বশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী তাঁর বাণীতে মহানবী (সা.)-এর আগমনকে মানবজাতির জন্য রহমত ও কল্যাণের এক অনন্য ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পক্ষকালব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বাদ মাগরিব জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব সাহানে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির সূচনা হয়।
আগামী ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে বাদ মাগরিব ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের বিশিষ্ট আলেম-ওলামারা অংশ নিয়ে মহানবী (সা.)-এর জীবন, কর্ম ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা করবেন।
এ ছাড়া আয়োজনের মধ্যে রয়েছে ওয়াজ, কিরাত, হামদ-নাত মাহফিল এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ বেতারের যৌথ উদ্যোগে সেমিনার।
স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শানে রচিত কবিতা পাঠ, সিরাত স্মরণিকা ও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশেরও আয়োজন রয়েছে।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব ও দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি ইসলামী ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি, মানবিকতা ও মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।