বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত বলপূর্বক গুমের ঘটনার বিচার প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) কেবল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের ঘটনাই অগ্রাধিকার পেয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন ‘মায়ের ডাক’–এর সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম (তুলি)।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গুমের তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে এসে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় গুমের শিকার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের প্ল্যাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’–এর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, বিগত সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে জামায়াতে ইসলামীর বাইরে রাজনৈতিক ও ভিন্নমতের যে বিপুল সংখ্যক মানুষ গুমের শিকার হয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর তিন মাস মেয়াদে তাঁদের অভিযোগের তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। উল্লেখ্য, সানজিদা ইসলাম গুমের শিকার বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন এবং বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিএনপির মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সানজিদা ইসলাম বলেন:
"গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল যে ট্রাইব্যুনালে গুমের প্রতিটি অভিযোগ সমান গুরুত্ব ও গতি পাবে। ‘মায়ের ডাক’ প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে বিগত এক যুগেরও বেশি সময়ের তথ্য-প্রমাণ ও নথি সংবলিত প্রায় ১৫০টি সুনির্দিষ্ট গুমের অভিযোগ চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো মেয়াদে এসব অভিযোগের ওপর কার্যকর কোনো অগ্রগতি দেখতে পাইনি। আমরা যখন রাজপথে আন্দোলন করেছি, তখন সব ভুক্তভোগীর অধিকারের জন্য দাঁড়িয়েছি। আমাদের প্রত্যাশা ছিল বিচারকাজ শুরু হলে তা সবার জন্য সমভাবে এগোবে, কোনো বিশেষ সিলেকশন থাকবে না। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে যেভাবে কাজ করা প্রয়োজন ছিল, দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা হয়নি।"
সানজিদা ইসলাম যে মামলাগুলোর কথা উল্লেখ করেন, তার মধ্যে একটি হলো র্যাবের টিএফআই সেলে জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমসহ (আরমান) অন্যান্যদের আটকে রাখার ঘটনা, যেখানে বর্তমান ও সাবেক ১২ সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিচার চলছে। অপর মামলাটি হলো ডিজিএফআইয়ের জেআইসিতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে দীর্ঘকাল গুম রাখার অভিযোগ, যাতে ১৩ জন আসামির বিচার চলছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্বে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার গঠনের পর চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে অ্যাডভোকেট মো. আমিনুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সানজিদা ইসলাম জানান, বর্তমান চিফ প্রসিকিউটরের অধীনে অভিযোগগুলোর তদন্তে কিছুটা ইতিবাচক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম স্পষ্ট করেন যে, ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাজ করছে না:
"গুমের শিকার প্রতিটি পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা রয়েছে। কে কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের, আমরা সেভাবে বিবেচনা করি না; আমাদের কাছে তাঁরা কেবলই নির্যাতিত পরিবার। মীর আহমাদ বিন কাসেম কিংবা আবদুল্লাহিল আমান আযমীর মামলার বিচার চলছে মানে এই নয় যে বিএনপির ভুক্তভোগীরা বিচার পাবেন না। এমনকি আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীও যদি গুমের শিকার হয়ে থাকেন, তাঁদের জন্যও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।"
তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর জানান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে বলপূর্বক গুম হয়ে আর ফিরে না আসা অন্তত ২৫০টি পরিবারের সন্ধান ও সত্যতা ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা নিশ্চিত করেছে। প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি গ্রহণ করা হচ্ছে এবং কোন স্থান থেকে তাঁদের তুলে নেওয়া হয়েছিল তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিটি ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে পাঁচজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত একটি তদন্তকারী দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে। তদন্ত সম্পন্ন হওয়ামাত্রই পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।