বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক সেমিনারে সমাপনী বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম
টেকসই প্রত্যাবাসনই দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ এবং সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে মানবিক দায়িত্বশীলতা ও কঠোর নিরাপত্তা বিবেচনার সমন্বয়ে এ সংকট মোকাবিলায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধীন সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জেস অব রোহিঙ্গা রিপ্যাট্রিয়েশন: ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্স অ্যান্ড ন্যাশনাল প্রায়োরিটিজ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এই নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
রোহিঙ্গা সংকটকে নিছক একটি মানবিক আশ্রয়ের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, এই সংকট বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তা, মানব নিরাপত্তা, ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং সামগ্রিক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে এক ক্রমবর্ধমান হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দীর্ঘ নয় বছর ধরে পরিকল্পনাহীনভাবে নেওয়া এই মানবিক দায় বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর বিপুল চাপ সৃষ্টি করেছে। এ সময় তিনি কক্সবাজার ও নোয়াখালীর ভাসানচরের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে অবস্থানরত প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গার সার্বিক অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও অবনতিশীল শৃঙ্খলার চিত্র তুলে ধরেন।
অতীত কূটনৈতিক সাফল্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৮ সালে এবং নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বিএনপি সরকারের সময় সুদৃঢ় কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে সফলভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়েছিল। এটি প্রমাণ করে যে কার্যকর ও কৌশলগত কূটনীতি বাস্তব ফলাফল বয়ে আনতে সক্ষম।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে অটল থেকে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি সংকট সমাধানে সুনির্দিষ্ট ছয় দফা কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে:
জাতিসংঘ, আসিয়ান, ওআইসি, চীন ও ভারতসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুক্ত করে সংকটের বৈশ্বিকীকরণ।
চীন ও ভারতের আঞ্চলিক প্রভাবের মধ্যে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা।
মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ এবং আরাকান আর্মি উভয়ের সাথেই বাস্তবসম্মত দ্বৈত-পর্যায়ের যোগাযোগ বজায় রাখা।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর সার্বিক অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার।
দেশের পূর্ব সীমান্তে কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য সামরিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা সুসংহত রাখা।
আসিয়ান ও ওআইসিভুক্ত দেশগুলোকে সমন্বয় করে একটি কার্যকর আঞ্চলিক কাঠামোর নেতৃত্ব দেওয়া।
সেমিনারে তিনি গত ১৫ আগস্ট মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রোহিঙ্গাকে যাচাই-বাছাই শেষে প্রত্যাবাসনযোগ্য হিসেবে ঘোষণার বিষয়টি পর্যালোচনা করেন। তিনি একে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচার প্রক্রিয়া ও বৈশ্বিক চাপ প্রশমনের একটি কৌশলগত চাল হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে তাদের আন্তরিকতার প্রকৃত প্রতিফলন নয়।