বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২)।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে বাড়িটির প্রধান গেটের তালা ভেঙে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় তিন দিন ধরে বাড়িটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়া এবং পরে বাড়ির ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এরপর স্বজনরা পুলিশকে খবর দেন।
মরদেহ উদ্ধারের স্থানগুলোও ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। পুলিশের তথ্যমতে, গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায় বাড়ির ছাদে। তার স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে প্রার্থীর মরদেহ ছিল ওপরের তলায় ওঠার সিঁড়ির কাছে। আর ১২ বছর বয়সী ছেলে প্রীয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয় একটি কক্ষের খাটের নিচ থেকে।
ঘটনাস্থলে ঘরের আসবাবপত্র তছনছ অবস্থায় পাওয়া গেছে। বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল। স্বর্ণালংকার বা মূল্যবান জিনিস রাখার স্থানগুলো ভাঙা অবস্থায় পাওয়ার কথা জানিয়েছে সিআইডি। এসব আলামতের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ডাকাতির সময় পরিবারটির সদস্যদের হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে তদন্তকারী সংস্থা।

রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী জানান, ঘটনাটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটে থাকতে পারে। প্রাথমিক আলামত দেখে এটি ডাকাতির ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
কোতোয়ালি থানার ওসি নাজমুল কাদের জানান, সিআইডির বিশেষ দল ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত গণপতি চক্রবর্তী গত বছর শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নেন। পরে তিনি নগরীর একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে চিকিৎসাসেবা দিতেন। তার মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী কারমাইকেল কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছিলেন এবং ছেলে প্রীয়ম রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
একই পরিবারের চার সদস্যের এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ডাকাতি, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো পারিবারিক ঘটনার জেরে এই মৃত্যু তা এখন তদন্তেই পরিষ্কার হবে।