বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন -ছবি : সংগৃহীত
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে গোপন ব্যালটের পরিবর্তে ‘ওপেন ব্যালট’ পদ্ধতিতে ভোট হবে। ফলে কোন ভোটার কোন প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন, তা উপস্থিত ব্যক্তিরা দেখতে পারবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও ভোটগ্রহণের পদ্ধতি তুলে ধরেন সিইসি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে এবার তিনি নিজেই গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে অবহিত করেন।
সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ব্যালট পত্রে প্রার্থী ও ভোটারের পরিচয় স্পষ্ট থাকবে। ভোটগ্রহণ এবং পরবর্তী গণনা প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকতে পারবেন। ফলে ভোটের পুরো প্রক্রিয়াই স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার।
সিইসি জানান, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই ভোট গণনা শুরু করা হবে। গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করবেন তিনি নিজেই।
ভোটদান ও গণনার গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকায় বর্তমানে মোট ৩৪৯ জনের নাম রয়েছে। সংসদের আসনসংক্রান্ত কিছু পরিবর্তনের কারণে ভোটার তালিকার ক্রমে সামান্য ভিন্নতা থাকলেও আইন অনুযায়ী তা সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানান সিইসি।
এবারের নির্বাচনে দুই প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে প্রার্থী হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদ।
গত ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর ১৬ আগস্ট সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই শেষে বৈধ মনোনয়নপত্রের ভিত্তিতে দুই প্রার্থী চূড়ান্ত হন। ১৮ আগস্ট মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় পার হলেও কোনো প্রার্থী নাম প্রত্যাহার করেননি।
সিইসি বলেন, ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম সংসদীয় ব্যবস্থায় একাধিক প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় এ ধরনের নির্বাচন না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতায় কিছুটা ঘাটতি ছিল।
তবে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, মহড়া ও প্রস্তুতির মাধ্যমে সেই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সিইসির ভাষ্য, নির্বাচন কমিশন, জাতীয় সংসদ সচিবালয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

ভোটের দিন জাতীয় সংসদের ভেতরে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না বলেও জানান সিইসি। সংসদ ভবনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও বিধিবিধান দেখভালের দায়িত্ব স্পিকারের হলেও নির্বাচন চলাকালে সংসদ কক্ষে প্রচারণা না চালানোর বিষয়ে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট।
তবে সংসদ ভবনের বাইরে নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসংক্রান্ত আইনে নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত বা বিপুল অর্থ ব্যয়ের যে আলোচনা রয়েছে, তা নাকচ করেছেন সিইসি। তাঁর মতে, সংসদ সদস্যদের বৈঠক আয়োজন, ব্যালট পত্র ও প্রয়োজনীয় স্টেশনারি ছাড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমিশনের বড় ধরনের অতিরিক্ত ব্যয় বা পৃথক কোনো বিশাল বাজেট নেই।
গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন সিইসি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা পেলে নির্বাচন কমিশন একটি সুন্দর, স্বচ্ছ ও ঐতিহাসিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম হবে।
আগামী ২০ আগস্টের ভোটে প্রকাশ্য ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ এবং তাৎক্ষণিক গণনার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের ফল নির্ধারিত হবে।