বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত -ছবি : সংগৃহীত
দেশে চলমান হাম পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।
তিনি বলেন, হাম পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সংক্রমণ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে এমন নিশ্চয়তা দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। সংক্রামক রোগের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সময় ও ধারাবাহিক কার্যক্রম প্রয়োজন।
বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে শিশুদের হাম নিয়ে পরিচালিত গবেষণার ফল প্রকাশ এবং গবেষকদের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাম অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম একটি সংক্রামক রোগ। কোনো এলাকায় সংক্রমণ শুরু হলে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।
তিনি বলেন, আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় হাসপাতালের শয্যা, আইসিইউ ও ভেন্টিলেটরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। হাম প্রতিরোধে টিকার কার্যকর বিকল্প এখনো নেই।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, দেশের টিকাদান কার্যক্রমে বিভিন্ন সময়ে তৈরি হওয়া ঘাটতির কারণে জনগোষ্ঠীর একটি অংশ প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থেকে পিছিয়ে পড়েছে। সেই সুযোগেই হাম সংক্রমণ বিস্তারের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এখন টিকার আওতা বাড়িয়ে জনগণের মধ্যে প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ে টিকা কার্যক্রম পরিচালনায় জনবল সংকট রয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী প্রায় ৪০ হাজার টিকাদানকর্মী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ২৫ হাজার।
তবে সীমিত জনবল নিয়েও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরলসভাবে কাজ করছেন বলে জানান তিনি। দুর্গম গ্রাম, চর ও প্রত্যন্ত এলাকায় সাইকেল ও নৌযান ব্যবহার করে শিশুদের কাছে টিকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এক মাসের মধ্যে প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার উদ্যোগকে বড় পরিসরের ইমিউনাইজেশন কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট দূর করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তার মতে, চিকিৎসক ও টিকাদানকর্মীর ঘাটতি পূরণ করা না গেলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।
বর্তমান হাম পরিস্থিতির পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে উল্লেখ করে ডা. এম এ মুহিত বলেন, টিকা সংগ্রহে বিলম্ব এবং ২০২৪ সালের টিকাদান কর্মসূচি যথাসময়ে বাস্তবায়ন না হওয়ার মতো বিষয়গুলো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠকর্মীরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
হাম মোকাবিলায় শুধু আক্রান্তদের চিকিৎসা দিলেই হবে না, একই সঙ্গে সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতেও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, মৃত্যুহার কমানো, আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া এবং টিকাদানের পরিধি বাড়ানোর কাজ সমন্বিতভাবে চালাতে হবে।
দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য ঘাটতি অল্প সময়ের মধ্যে পূরণ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।
বর্তমান হাম পরিস্থিতিকে ভবিষ্যতের বড় ধরনের সংক্রামক রোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ হিসেবেও দেখার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্ববাসীকে সংক্রামক রোগের ভয়াবহতা নতুন করে বুঝিয়েছে। প্রযুক্তির পরিবর্তন, মানুষের চলাচল বৃদ্ধি এবং জীবাণুর বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে নতুন নতুন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ কারণে সংকট দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই স্বাস্থ্য অবকাঠামো, জনবল ও প্রয়োজনীয় সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. এম এ মুহিত বলেন, দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও গবেষকদের আরও বেশি সুযোগ দিতে হবে।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হাম নিয়ে পরিচালিত গবেষণার ফল প্রকাশ এবং গবেষকদের অনুদান দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে সংক্রামক রোগের বিস্তার, প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার উপায় বের করা সম্ভব।
তিনি বলেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে আগাম ধারণা পেতে গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর মতে, হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান সম্প্রসারণ, চিকিৎসা সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকর্মীদের সংখ্যা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ একযোগে চালাতে হবে।
দীর্ঘদিনের ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধারাবাহিক ও বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমেই পরিস্থিতির টেকসই উন্নতি সম্ভব।
স্বাস্থ্য বিভাগ ইতোমধ্যে হাম নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সংক্রমণ বড় আকার নিতে না পারে সে জন্য দেশের টিকাদান ব্যবস্থা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।