বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি ::সংগৃহীত
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার পক্ষ থেকে প্রত্যর্পণের দাবি জানানো হলেও দিল্লির সাম্প্রতিক বক্তব্যে আগের তুলনায় ভিন্ন সুর পাওয়া যাচ্ছে।
ভারতের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর প্রশ্নে দেশটির আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে দেশটির শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও মামলাগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় কি না তা যাচাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে প্রত্যর্পণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এতদিন ভারত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে সরাসরি কোনো ইতিবাচক বা নেতিবাচক সিদ্ধান্ত জানায়নি। বিষয়টি পর্যালোচনায় রয়েছে এমন বক্তব্যই এসেছে বিভিন্ন সময়ে। ফলে এবার আদালত ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ সামনে আসায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, হাসিনার প্রত্যর্পণ কি এবার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বদলে আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে?
ভারতীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে বাংলাদেশে ফেরার পর তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সম্ভাবনা এবং আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থাও প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত বিবেচনায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালে প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তী সময়ে চুক্তিতে সংশোধনও আনা হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় বিচারাধীন বা সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট শর্তে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ফেরত পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। তবে রাজনৈতিক অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যানের সুযোগও রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে হত্যা, হামলা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার কিংবা হত্যায় প্ররোচনার মতো কয়েকটি গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করার বিধান রয়েছে। ফলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর আইনি চরিত্র কীভাবে নির্ধারিত হয় সেটিও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আগে আগস্টের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে সফরের সম্ভাবনার কথা আলোচনায় এলেও এখন দুই দেশের মধ্যে অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য পলাতক আসামিকে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফেরত পাঠানোর দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ওসমান হাদি হত্যা মামলার অভিযুক্তদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের অনুরোধও জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে দিল্লির সাম্প্রতিক বার্তা নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, কূটনৈতিক সমঝোতা নাকি আদালতের আইনি প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোবে প্রত্যর্পণের বিষয়টি এখন সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।