বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম
আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে পরমাণু বিজ্ঞান ও লাগসই প্রযুক্তিকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ও মৌলিক ভিত্তি হিসেবে রূপান্তর করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) ড. আনোয়ার হোসেন মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি বিজ্ঞানী সংঘ (বাএসাস) আয়োজিত "বিএইসির প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রায়োগিক সক্ষমতা জোরদারকরণের উপায় নির্ধারণ" শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও নিয়োজিত মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনে বিপুল সংখ্যক আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ বিজ্ঞানী ও পিএইচডি গবেষক কর্মরত রয়েছেন। দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিতে তাঁদের মেধা, মনন ও গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো অপরিহার্য। তিনি আশ্বাস দেন, গবেষক ও বিজ্ঞানীদের বিদ্যমান সমস্যা ও পেশাগত প্রতিবন্ধকতাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যালোচনা করে তা দ্রুত নিরসনে সরকার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, পরমাণু প্রযুক্তির ব্যবহার কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষিক্ষেত্রে উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন, জনস্বাস্থ্য সেবা, জটিল ক্যানসার চিকিৎসায় নিউক্লিয়ার মেডিসিনের প্রসার, ভারী শিল্প ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে এর রয়েছে অপার সম্ভাবনা। তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী চিন্তা ও মৌলিক গবেষণাকে উৎসাহিত করতে স্টার্টআপ এবং নতুন প্রযুক্তি বিকাশের লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় আর্থিক ও নীতিগত সহায়তা দেবে জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণ গবেষকদের সহায়তায় একটি বিশেষ ‘ফান্ড অব ফান্ডস’ গঠনের বিষয় নিয়ে সরকার গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করছে।
বহুল প্রতীক্ষিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় সকল কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উৎপাদনে নেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "নিরাপত্তা বা কারিগরি বিষয়ে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে না।" রূপপুর প্রকল্পে ইতোমধ্যে সফলভাবে জ্বালানি (ফুয়েল) লোডিং সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রকৌশলীরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খুঁটিনাটি সকল বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদারকি করছেন বলে তিনি জানান।
স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর) প্রযুক্তির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই আধুনিক প্রযুক্তির সম্ভাবনা ও উপযোগিতা পর্যালোচনা করছে। তবে এর সার্বিক নিরাপত্তা, কারিগরি উপযুক্ততা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই করার পরই এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। এ সময় পরমাণু প্রকল্পের মতো সংবেদনশীল ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য বিজ্ঞান সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে পরমাণু প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই সেবা চালু থাকলেও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় তা পৌঁছে দিতে কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিজ্ঞানীদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাঁদের উপযুক্ত কাজের পরিবেশ, প্রশিক্ষণ এবং ন্যায্য পেশাগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা আবশ্যক, যাতে জ্বালানি নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে গবেষকেরা সমন্বিতভাবে অবদান রাখতে পারেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন পরমাণু শক্তি কমিশনের মেধা ও কারিগরি সক্ষমতাকে জনকল্যাণমূলক সেবায় রূপান্তরের তাগিদ দেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ও সভাপতিত্ব করেন পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (এইআরই) মহাপরিচালক এবং বাএসাসের সভাপতি ড. এ এস এম সাইফুল্লাহ।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম মঈনুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েফা) চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান। অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী বিজ্ঞানী সংঘের বিজ্ঞানভিত্তিক নিয়মিত প্রকাশনা ও মুখপাত্র ‘অন্বেষা’র মোড়ক উন্মোচন করেন।