বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান- ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
রাজপথে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত করার চেষ্টা করা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ উপলক্ষে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে চলছে। এমন পরিস্থিতিতে কেউ রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
দেশের চলমান সংকট মোকাবিলায় সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংকটকে কাজে লাগিয়ে একটি মহল রাজপথে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতির মুখে পড়ছে।
জনগণের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং সরকারি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে দেশের সামনে সবচেয়ে বড় কাজ হলো রাষ্ট্র সংস্কার ও পুনর্গঠন।
নির্বাচনে জনগণের দেওয়া সমর্থনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের আস্থার প্রতি সম্মান রেখে বিএনপি দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও জনগণের স্বার্থের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, আগের সরকারের অপরিকল্পিত বৃহৎ প্রকল্পের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। আগামী ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আগামী ১০ বছরে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা বা মাস্টারপ্ল্যান জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানদের পর্যায়ক্রমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সহজলভ্যভাবে সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীদের অনার্স পর্যায় পর্যন্ত পড়াশোনা বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ শিক্ষার ব্যয় সরকার বহন করবে। ভালো ফলাফল অর্জনকারী ছাত্রীদের বিশেষভাবে পুরস্কৃত করার ব্যবস্থাও থাকবে।
এ ছাড়া দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে নতুন বইয়ের পাশাপাশি বছরে অন্তত একবার স্কুল ড্রেস ও স্কুলব্যাগ দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে সকালে সড়কপথে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। পথে গাজীপুরের ভাওয়াল বাজার এলাকায় কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার দেখা হয়। এ সময় তিনি গাড়ি থামিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তার প্রথম কিশোরগঞ্জ সফর। তাকে ঘিরে জেলা ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।