বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুপ্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর খসড়া চূড়ান্ত রূপ পেলেও শেষ সময়ে জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের শতভাগ ভাতা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পূর্বে বিষয়টি আরও পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫-এর প্রতিবেদনটি পুনরায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে অর্থ বিভাগ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী এক অনির্ধারিত বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে নবম পে-স্কেলের সার্বিক আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের সময়রেখা এবং বিভিন্ন পেশাগত কাঠামোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কমিশনের সুপারিশ ও জুডিশিয়াল সার্ভিসের দাবিগুলো পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়ে বেতন কাঠামোতে যেকোনো ধরনের অসঙ্গতি বা বৈষম্য দ্রুত দূর করার তাগিদ দেন। একই সঙ্গে দেশের চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সামষ্টিক অর্থনীতির চাপ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার বিকল্পও সরকার বিবেচনা করছে।
বিচার বিভাগীয় বেতন কাঠামো পর্যালোচনার লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত সাত সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি দ্রুতই এক বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। এর আগে গত ১২ আগস্ট বৈঠকটি নির্ধারিত থাকলেও সদস্যদের অনুপস্থিতির কারণে তা অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। আসন্ন বৈঠকে বিচারকদের সুযোগ-সুবিধা ও ভাতার যৌক্তিকতা এবং সরকারের অতিরিক্ত আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করা হবে।
এর আগে গত ১২ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত সচিব কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশমালা পর্যালোচনা করে একটি সমন্বিত প্রস্তাবনা প্রস্তুত করে। ওই প্রস্তাবে গ্রেডভেদে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে, যেখানে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বৃদ্ধির হার বেশি রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুরো কাঠামোটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে—প্রথম ধাপে কেবল মূল বেতন বৃদ্ধি এবং দ্বিতীয় অর্থবছরে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য ভাতাসমূহ সমন্বয় করা।
২০১৫ সালে সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেলেও নতুন কোনো বেতন স্কেল কার্যকর হয়নি। ফলে বাজেট সীমাবদ্ধতা ও খাতভিত্তিক নানাবিধ দাবির সমন্বয়ের অভাবে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন দফায় দফায় বাধার মুখে পড়ছে।