বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি -ছবি : সংগৃহীত
দেশের বিভিন্ন সমস্যা জাতীয় সংসদে আলোচনা করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি কার্যকর, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদ পরিচালনার চেষ্টা চলছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদারসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
চিফ হুইপ বলেন, দেশের মৌলিক সংবিধানিক কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা হবে। এ লক্ষ্যে ১৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিএনপির সাতজন এবং বিরোধী দলের পাঁচজন সদস্য রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, জনগণের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি রাজনৈতিক সরকার বর্তমানে দেশ পরিচালনা করছে। আগামী পাঁচ বছর দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য সরকার কাজ করবে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনে দেশের বেকারত্ব ও দুর্ভিক্ষের অবসান ঘটানোর আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই দেশে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, সরকার স্বাধীন গণমাধ্যমে বিশ্বাস করে। সংবাদমাধ্যমের যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধানেও সরকার কাজ করবে।
তিনি ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, সে সময় মানুষের খাদ্যসংকট, দুর্ভোগ ও শিশুদের কষ্ট ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। মানুষের প্রতিবাদ ও ক্ষোভ দমনে বাকশাল ও রক্ষীবাহিনী গঠন করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। ওই সময়ে অনেক রাজনৈতিক কর্মী নিহত হন এবং পরবর্তী সময়ে একদলীয় ব্যবস্থা চালু করা হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চিফ হুইপের ভাষ্য, সেই সময় মানুষের মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের মানুষের সামনে নতুন আশার পথ তৈরি করেন।
জিয়াউর রহমানের শাসনামলের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। খাল খনন, সমবায় ব্যবস্থা এবং জাতীয়করণ করা শিল্পকারখানা পুনর্গঠনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়।
বর্তমান সরকার মানুষের মৌলিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে কাজ করছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে দেশ থেকে বিপুল অর্থ পাচার হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বর্তমান সরকারের গত সাড়ে পাঁচ মাসে পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। মানুষ এখন তুলনামূলকভাবে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারছে এবং ভয়ভীতির পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসছে।
সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষকদের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। দরিদ্র ও অসহায় নারীদের সহায়তায় ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা বিনামূল্যে দেওয়ার সঙ্গে সরকারি উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কৃষকদের জন্য সার, বীজ ও কীটনাশকের সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে কৃষক কার্ড চালুর কথাও জানান তিনি। চলতি বছরের মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ কৃষক ও ৫০ লাখ পরিবারকে এসব সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে বলে উল্লেখ করেন চিফ হুইপ।
বেকারত্ব কমাতে তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। দক্ষ ও কর্মক্ষম তরুণ সমাজ গড়ে তুলতে পারলেই দেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ তৈরি করা সম্ভব।
সবশেষে দল-মত নির্বিশেষে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে একটি আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।