বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সাময়িক এ সংকট দ্রুত নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ এবং দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে নতুন গ্যাসের সন্ধানে দেশের অভ্যন্তরে অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানিকে (বাপেক্স) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আগের সরকার বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার দায় রেখে গেছে। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও পর্যাপ্তভাবে গড়ে তোলা হয়নি। ফলে দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারকে নানা ধরনের জটিলতা মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশে গ্যাস অনুসন্ধানের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার কাজ করছে। সম্প্রতি একটি এলএনজি জাহাজ দুর্ঘটনার কারণে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। তবে দ্রুত এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা, বিভ্রান্তি বা অস্থিরতা সৃষ্টি করা নয়।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, রাস্তায় বসে ভাঙচুর কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। কারও কাছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানের কার্যকর পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রস্তাব যদি ছয় মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সমাধান করতে সক্ষম হয় তাহলে সরকার সেটি বাস্তবায়নে আগ্রহী।
সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি দলের প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক দলকে হারিকেন হাতে প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে, অথচ তাদের পেছনে বৈদ্যুতিক ফ্যান চলছিল। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলার হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা নিজ নিজ এলাকায় আরও ভালো চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
তারেক রহমান বলেন, অতীতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে এমনভাবে পরিচালনা করা হয়েছে যে অনেক মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমান সরকার চিকিৎসাসেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করছে।
দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শুধু শ্রমশক্তি হিসেবে নয়, দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলে উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে কী পাওয়া গেল, সেটি বড় বিষয় নয়; বরং দেশের ও মানুষের জন্য কতটা কাজ করা গেল, সেটিই প্রকৃত সাফল্য।