বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
সিলেট নগরের রায়নগরে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের গৃহপরিচারিকা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন নিহত দম্পতির মেয়ে। তার দাবি, দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বের হুমকির ধারাবাহিকতায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে পরিকল্পিতভাবে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় পুলিশের হাতে আটক ও পরে গ্রেপ্তার হওয়া রংমিস্ত্রি বাবুল মিয়ার নাম মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়নি। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে সেলিনা উল্লেখ করেন, তার বাবা এম এ সাত্তার ১৯৯৭ সালে সিলেট পুলিশ লাইনস লুসাই গির্জা সমিতির কাছ থেকে রিকাবীবাজারের সরফপুর এলাকায় প্রায় ১২ শতক জমি ইজারা নিয়ে সেখানে বসবাস করছিলেন। পরে ২০০৬ সালে ইম্পালস বিজনেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ওই জমিসহ সমিতির আরও কিছু জমির মালিকানা দাবি করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়।
এই বিরোধের জেরে ২০১৬ সালে সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন এম এ সাত্তার। এরপর মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাকে ও পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন সেলিনা। এ বিষয়ে তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছিলেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি সিরাজুল ইসলাম, আমিন হোসেনসহ কয়েকজন তাদের বাসায় গিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে হুমকি দিয়ে তারা চলে যান। ওই ঘটনার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন সেলিনা।
সেলিনার ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ ও ৩০ জুলাই আদালত প্রাঙ্গণেও তার বাবাকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এসব ঘটনার পরই পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে লোক দিয়ে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি সন্দেহ করছেন।
মামলার এজাহারে হত্যাকাণ্ডের পর বাসা থেকে জমিসংক্রান্ত দলিল, বিভিন্ন নথি ও পূর্বে করা সাধারণ ডায়েরির কপি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
নিহতদের মেয়ে সেলিনা বলেন, তার মা-বাবার হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, গৃহপরিচারিকা তাহমিনাকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের যে ব্যাখ্যা সামনে আনা হচ্ছে, সেটি প্রকৃত ঘটনা নয়।
তার অভিযোগ, তাহমিনাকে বাঁচাতে গিয়ে তার মা প্রাণ হারিয়েছেন। তাহমিনা পরিবারের কাছে বিশ্বস্ত ছিলেন এবং তার কাছে কোনো মোবাইল ফোনও ছিল না বলে দাবি করেন সেলিনা।
গ্রেপ্তার বাবুল মিয়াকে প্রসঙ্গে সেলিনা বলেন, তিনজনকে হত্যার মতো ঘটনা একা বাবুলের পক্ষে ঘটানো সম্ভব নয়। তার ধারণা, এর পেছনে আরও প্রভাবশালী বা সংশ্লিষ্ট কেউ থাকতে পারেন।
নিহত এম এ সাত্তারের ছেলে আরিফ ইফতেখারও তদন্তের ওপর আস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন। তার প্রত্যাশা, বাবুলকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদসহ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের পরিচয় সামনে আসবে।
গত বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে এম এ সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এরপর ওই দিন বিকেলে রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার একটি কলোনি থেকে বাবুল মিয়া (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরদিন তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশের ভাষ্য, রংমিস্ত্রির কাজ করার সূত্রে গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল।
তবে নিহতদের পরিবারের বক্তব্যে হত্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উঠে এসেছে জমিসংক্রান্ত বিরোধ এবং অতীতে দেওয়া হুমকির বিষয়টি। এ কারণে ঘটনার নেপথ্য কারণ নিয়ে তদন্তে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মোহাম্মদ মাঈনুল জাকির জানান, নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এজাহারে নিহত এম এ সাত্তারের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরোধের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মামলায় করা অভিযোগ এবং পুলিশের হাতে থাকা তথ্য—দুই দিক বিবেচনায় নিয়েই তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ বা এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে জমি বিরোধ, পূর্বের হুমকি এবং গ্রেপ্তার বাবুলকে ঘিরে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য—সবকিছু মিলিয়ে রায়নগরের তিন খুনের ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।