বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের আপিল এবং ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় উঠেছে।
বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আগামী রোববার (১৬ আগস্ট) মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। কার্যতালিকায় মামলাটির অবস্থান ২২ নম্বরে।
মামলার নথি অনুযায়ী, রামিসা তার বাবা-মায়ের সঙ্গে পল্লবীর একটি বাসায় থাকত। একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন মামলার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
গত ১৯ মে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর সোহেল রানা কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তারের পর ২১ মে সোহেল রানা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের মাধ্যমে দুজনকেই কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার তদন্ত শেষে ২৫ মে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান। একই দিনে মামলাটি বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
এরপর ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পরদিন ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জন সাক্ষ্য দেন।
মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ৭ জুন মামলাটির রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে সোহেলকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রায়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারার বিধান অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৩৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন ছাড়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়।

জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে কালেক্টরেট অফিসকে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রি করে সেই অর্থ রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর মামলার ডেথ রেফারেন্সের নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে দুই আসামি তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।
এখন ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিল দুই বিষয়ই হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী রোববারের কার্যতালিকায় মামলাটি ওঠার মধ্য দিয়ে উচ্চ আদালতে এর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে।
হাইকোর্টের শুনানিতে ট্রাইব্যুনালের রায়, মামলার নথি, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং আসামিদের আপিলের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে। এরপর আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মামলাটির পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।