বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

শনিবার সকালে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-ছবি :সংগৃহীত
প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষের কাছে সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা যদি শুধু শহরের বিত্তবান মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে তাহলে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা বলা যাবে না।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের নবনির্মিত ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট ‘ভবন-২’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য কেবল হাসপাতাল নির্মাণ কিংবা প্রযুক্তির সম্প্রসারণ নয়। দক্ষ মানবসম্পদ, সুশাসন এবং সময়োপযোগী নীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কোনো রোগীকে চিকিৎসার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে ছুটে আসতে হবে এমন পরিস্থিতি সরকার চায় না।
এ লক্ষ্যে ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে আধুনিক ও কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে।
সরকারের বর্তমান মেয়াদে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুস্থ আগামী’ বিনির্মাণে শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি জানান, আগামী অক্টোবর মাসে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে মোট পাঁচটি ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল একযোগে চালু করার সক্ষমতা অর্জন করবে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হলেও রোগীর উদ্বেগ ও কষ্ট লাঘবে চিকিৎসকের মানবিক আচরণের কোনো বিকল্প নেই। প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু একজন রোগীর মানসিক যন্ত্রণা ও উদ্বেগ কমাতে চিকিৎসকের সহানুভূতিশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্ন করার দায়িত্ব শুধু চিকিৎসকের নয়। চিকিৎসক, রোগী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতির সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রীর মতে, চিকিৎসকরা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন কিংবা রোগীরা চিকিৎসকদের ওপর আস্থা হারান তাহলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে চিকিৎসার জন্য মানুষের বিদেশমুখিতা বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

এদিকে একই অনুষ্ঠানে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে নবনির্মিত ৫০০ শয্যার নতুন ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে শেরেবাংলা নগরে হাসপাতালের নতুন ভবন উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধনের আগে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে মোনাজাতে অংশ নিয়ে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন ৫০০ শয্যা যুক্ত হওয়ার ফলে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে মোট শয্যাসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজারে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দক্ষিণ এশিয়ার অন্য কোনো দেশে এত বড় নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল নেই।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১২ সালে ১০তলা ভবনে ৩০০ শয্যা নিয়ে হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হয়। রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় পরবর্তী সময়ে আরও ২০০ শয্যা যুক্ত করা হয়। এবার নবনির্মিত ১৫তলা ভবনের মাধ্যমে আরও ৫০০ শয্যা যুক্ত হলো।
নতুন ভবন চালুর ফলে স্ট্রোক, ইপিলেপসি, মেরুদণ্ডের জটিলতা এবং বিভিন্ন ধরনের স্নায়ুবিক রোগের চিকিৎসা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্মরণ করেন, ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন ভবন ও অতিরিক্ত শয্যা যুক্ত হওয়াকে দেশের স্নায়ুরোগ চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাতে জাতীয় বাজেটে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়া কেবল কোনো স্লোগান নয়। এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই সরকারের লক্ষ্য, যেখানে চিকিৎসার জন্য কোনো নাগরিককে দেশের বাইরে যেতে হবে না এবং অর্থের অভাবে কেউ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না।
স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া, আধুনিক রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা এবং চিকিৎসক-রোগীর মধ্যে আস্থা ও মানবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।