বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন -ছবি : সংগৃহীত
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে একটি সভার রেজুলেশনের আংশিক অংশ প্রকাশ করে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) মিলনায়তনে এডুকেশন রিফর্ম ইনস্টিটিউটের (ইআরআই) আয়োজনে ‘সমৃদ্ধ অর্থনীতির বিনির্মাণে শিক্ষা: দক্ষতা, ভাষাগত সক্ষমতা ও বৈশ্বিক গতিশীলতা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ অভিযোগ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে তা একাধিক ধাপে আলোচনা, যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যায়। কিন্তু একটি সভার রেজুলেশনের কিছু অংশ বাদ দিয়ে প্রকাশ করায় পুরো বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে এমন ধারণা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন ও মিছিল হচ্ছে। তবে বিষয়টি যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এসেছে, সেটি সম্পূর্ণভাবে না বুঝেই এ ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট সভার রেজুলেশনে আলোচনার একটি অংশ প্রকাশ্যে এসেছে। কিন্তু রেজুলেশনের পরবর্তী অংশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, বিষয়টি মন্ত্রী নিজে পর্যালোচনা করবেন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন এবং এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
তার অভিযোগ, রেজুলেশনের সেই গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ দিয়ে কেবল একটি অংশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে সিদ্ধান্তটি ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে গেছে।
এহছানুল হক মিলন বলেন, কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। প্রথমে বিষয়টি আলোচনায় আসে, এরপর রেজুলেশন তৈরি হয় এবং তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
তিনি বলেন, একটি রেজুলেশন তৈরি হলেই সেটি মন্ত্রীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত কিংবা দলীয় সিদ্ধান্ত হয়ে যায় না। তাই কোনো নথির আংশিক অংশ দেখে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে পুরো বিষয়টি যাচাই করা জরুরি।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো বিষয়ে আপত্তি থাকলে আন্দোলনে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। তথ্য যাচাই না করে অযথা উত্তেজনা তৈরি করা সমীচীন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকারের বয়স মাত্র পাঁচ মাস। তাই প্রতিটি বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আন্দোলনে না গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।
তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো একটি তথ্য শোনামাত্র সেটির পেছনে ছুটে যাওয়ার আগে তথ্যটি সত্য কি না, তা নিশ্চিত হওয়া দরকার। এ সময় তিনি ‘চিলে কান নিয়ে গেছে’—এমন কথা শুনে নিজের কান আছে কি না যাচাই না করে চিলের পেছনে ছুটে চলার উদাহরণ দেন।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বর্তমানে অনেক তথ্য যাচাই ছাড়াই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এতে প্রকৃত ঘটনা আড়ালে পড়ে গিয়ে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো সিদ্ধান্তই কেবল একটি সভার রেজুলেশনের একটি অংশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত হয় না। সংশ্লিষ্ট সব বিষয় পর্যালোচনা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।