বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান -ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ভারতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়েও এখনো কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাতের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ তার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য ভারতকে তাগিদ দিয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং ভারত এ ব্যাপারে ইতিবাচকভাবে সাড়া দেবে বলে বাংলাদেশ আশাবাদী।
গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনা একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামির দিল্লিতে অবস্থান ও প্রকাশ্য বক্তব্যের বিষয়ে এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
বৈঠকে এ প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভারতকে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করেছে বলেও জানান তিনি।
শেখ হাসিনার পাশাপাশি ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের আসামিদের প্রত্যর্পণের বিষয়টিও বৈঠকে উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে ভারত যেসব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়েছিল, বাংলাদেশ সেগুলো সরবরাহ করেছে। এখন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এ নিয়ে এখনো কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আমন্ত্রণ রয়েছে। তবে কোন আমন্ত্রণ গ্রহণ করা হবে বা প্রধানমন্ত্রী কবে ভারত সফর করবেন, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, তিনি ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনুমান করে বলতে পারেন না যে কবে দুই দেশের সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে।
তারেক রহমানের ভারত সফরের আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি বিষয় পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকার গঠনের দিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন, যেখানে আমন্ত্রণের বিষয়টি উল্লেখ ছিল বলেও জানান তিনি। তবে এসব আমন্ত্রণের কোনটি গ্রহণ করা হবে, তা সরকার পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে গঙ্গা চুক্তি বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈঠকটি ছিল মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন হাইকমিশনারের সঙ্গে সরকারপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাতে সাধারণত নির্দিষ্ট চুক্তি বা বিস্তারিত কারিগরি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় না। এ ক্ষেত্রে কূটনৈতিক বৈঠকের বিভিন্ন স্তর ও প্রটোকল বিবেচনায় নেওয়ার কথাও সাংবাদিকদের স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক সামনে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির ওপর বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য বা অমীমাংসিত ইস্যু থাকলেও সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করার বিষয়ে গুরুত্ব রয়েছে বলে জানান তিনি।
এর আগে সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে দীনেশ ত্রিবেদীও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যু থাকলেও জনগণের প্রত্যাশা একটি ভালো সম্পর্ক। আর দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি হলে তা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে।
সোমবারের ধারাবাহিক বৈঠক ও বক্তব্যে একদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফেরত দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে অন্যদিকে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর ও দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।