বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ফাইল ফটো
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বিভাগভেদে শিক্ষার্থীদের সাফল্যে বড় ধরনের বৈষম্য দেখা গেছে। বিজ্ঞান বিভাগে যেখানে পাসের হার ৮০ শতাংশের বেশি, সেখানে মানবিক বিভাগে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগেও মানবিকের তুলনায় ফলাফল বেশ ভালো।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া গেছে। ফল প্রকাশের পর বিভাগভিত্তিক সাফল্যের এই বড় ব্যবধান শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
এবার সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডে মানবিক বিভাগ থেকে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৩ লাখ ১ হাজার ১৭৪ জন।
ফলে মানবিক বিভাগে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ এ বিভাগের অর্ধেকেরও বেশি, প্রায় ৫১ দশমিক ২২ শতাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

ফলাফলের দিক থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এটিই সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র হিসেবে সামনে এসেছে। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় সামগ্রিক পাসের হারেও এর প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মানবিকের বিপরীতে বিজ্ঞান বিভাগের ফলাফল ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো। এ বিভাগে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।
তাদের মধ্যে ৮০ দশমিক ৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। অর্থাৎ বিজ্ঞান বিভাগের প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৮১ জনই উত্তীর্ণ হয়েছে।
বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগের পাসের হারের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ পয়েন্ট। এই ব্যবধানই এবারের ফলাফলে বিভাগভিত্তিক বৈষম্যের চিত্রটি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এবার পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ লাখ ১৯ হাজার ৬৬৬ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৬৪ দশমিক ৩০ শতাংশ পাস করেছে।
এ বিভাগেও ছাত্রীদের ফলাফল ছাত্রদের তুলনায় ভালো। ছাত্রদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ, আর ছাত্রীদের পাসের হার ৬৯ দশমিক ৯২ শতাংশ।
অর্থাৎ বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান শীর্ষে থাকলেও ব্যবসায় শিক্ষার ফলাফলও মানবিক বিভাগের তুলনায় অনেক এগিয়ে।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিতে তুলনামূলক দুর্বলতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ দুটি বিষয়ে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের অকৃতকার্য হওয়ার হার বেশি হওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে গণিত ও ইংরেজিতে দুর্বলতার কারণে মানবিক বিভাগের পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
তবে শুধু একটি বা দুটি বিষয়ের ফল দিয়ে পুরো বিভাগের দুর্বলতার কারণ নির্ধারণ না করে বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন পাস করতে পারেনি।
সব শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এ হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এবার জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাতেও পতন হয়েছে। মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সামগ্রিক ফলাফলের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এবারের পাসের হার গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
২০০৭ সালের পর এবারই পাসের হার এত নিচে নেমেছে। ফলে শুধু মানবিক বিভাগের ফল নয়, সামগ্রিক ফলাফলের পতনের কারণ নিয়েও শিক্ষা খাতে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এবারও পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্রীদের সাফল্য বেশি। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ছাত্রীদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও মেয়েরা এগিয়ে। মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন ছাত্রী এবং ৫২ হাজার ৭৮০ জন ছাত্র।
এবারের ফলাফলে মানবিক বিভাগের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া এবং বিজ্ঞান বিভাগের ৮০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী পাস করার বিষয়টি নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, বিভাগভেদে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা, শিক্ষক সংকট, পাঠদানের মান, ইংরেজি ও গণিতভীতি এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সহায়তার মতো বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার নির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতেও এ বিভাগের ফলাফলে বড় ধরনের বৈষম্য থেকে যেতে পারে।
এবারের ফলাফল তাই শুধু পাস-ফেলের পরিসংখ্যান নয়; বরং কোন বিভাগে শিক্ষার্থীরা কেন পিছিয়ে পড়ছে, সেটি খুঁজে বের করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।