বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম বকশী -ছবি : সংগৃহীত
ঢাকার সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম বকশী (৩০) এর মৃত্যুর ঘটনায় পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে তাদের রংপুর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন পীরগাছা থানার এসআই কনক রঞ্জন বর্মন, এএসআই ওসমান আলী, কনস্টেবল প্রশান্ত কুমার ও কনস্টেবল সুমী আক্তার।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুলাই রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামের শফিকুল ইসলাম মিন্টু তার ১৫ বছর বয়সী মেয়ে মিমি আক্তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডির ভিত্তিতে এসআই কনক রঞ্জন বর্মনের নেতৃত্বে পীরগাছা থানা পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিমির অবস্থান শনাক্ত করে। পরে তাকে উদ্ধারের জন্য গত বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে সাভারের লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের দাবি, অভিযান চলাকালে সদস্যরা ভবনের নিচতলায় অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে ছাদ থেকে কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে তারা সেখানে গিয়ে মনোয়ারুল ইসলাম বকশীকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনার ভিন্ন অভিযোগ করা হয়েছে।
নিহতের স্বজনদের দাবি, মনোয়ারুলের ভাগিনা শাহরিয়ার কবির সৌমিকের সঙ্গে নিখোঁজ কিশোরী মিমির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের কারণে তারা বাড়ি ছেড়ে সাভারে সৌমিকের নানার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
স্বজনদের অভিযোগ, পুলিশি অভিযানের সময় মনোয়ারুলকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়। অভিযানে জিডির বাদী শফিকুল ইসলাম মিন্টু ও তার শ্যালক পুলিশের পোশাক পরে পুলিশের সঙ্গে ছিলেন বলেও তারা দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
মনোয়ারুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার সকালে তার স্বজন, এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা পীরগাছা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। পরে পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
নিহত মনোয়ারুল ইসলাম বকশী গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতিবান্ধা গ্রামের জাফর বকশীর ছেলে। বাবার চাকরির সূত্রে তিনি সাভারের বিপিএটিসি কোয়ার্টারে বসবাস করতেন।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানিয়েছেন, ঘটনার বিষয়ে ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অভিযানে অংশ নেওয়া পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে রংপুর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, পীরগাছা থানার পুলিশকে সহযোগিতা করতে এসআই আব্দুল হাইসহ দুজন কনস্টেবল ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। পুরো বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ এবং পুলিশের বক্তব্যের মধ্যে যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।