বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
দেশের আরও ৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ধর্মীয় নেতারা এ সুবিধা পাবেন। আগস্ট মাসেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নতুন করে রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতার আওতায় আসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩ হাজার মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধ বিহার এবং ৩০১টি গির্জা। এসব প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করা মোট ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা এ সুবিধার আওতায় আসবেন।
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ কর্মসূচি চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই ধাপে ধাপে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী, নির্বাচিত মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ এবং গির্জার যাজক মাসে ৫ হাজার টাকা করে সম্মানি পাবেন।
অন্যদিকে মসজিদের মুয়াজ্জিন, মন্দিরের সেবাইত, বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ এবং গির্জার সহকারী যাজক পাবেন মাসিক ৩ হাজার টাকা করে। আর মসজিদের খাদেমদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ২ হাজার টাকা মাসিক সম্মানি।
সরকারি ব্যবস্থায় এ অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে পাঠানো হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৫টি মসজিদ নির্বাচন করা হবে।
পৌরসভাগুলোর ক্ষেত্রে শ্রেণিভেদে মসজিদ নির্বাচনের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে চারটি, ‘খ’ শ্রেণির ওয়ার্ড থেকে তিনটি এবং ‘গ’ শ্রেণির ওয়ার্ড থেকে দুটি মসজিদ নির্বাচন করা হবে।
এ ছাড়া দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ছয়টি করে মসজিদ এই কর্মসূচির জন্য বাছাই করা হবে।
মন্দির নির্বাচনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নীতিমালা রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রতিটি উপজেলা থেকে পাঁচটি মন্দির নির্বাচন করা হবে। এর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি থেকে দুটি এবং অন্যান্য শ্রেণির পৌরসভা থেকে একটি করে মন্দির নেওয়া হবে। বাকি মন্দিরগুলো ইউনিয়ন পর্যায় থেকে নির্বাচন করা হবে। অন্যদিকে বৌদ্ধ বিহার ও গির্জার সংখ্যা জেলাভিত্তিক ২৫ শতাংশ হারে নির্ধারণ করা হবে। ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানি দেওয়ার জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে দেশের মোট ধর্মীয় উপাসনালয়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এ সুবিধার আওতায় আসবে। এরপর পর্যায়ক্রমে আগামী তিন অর্থবছরের মধ্যে দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতার আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পরীক্ষামূলকভাবে এই সম্মানি ভাতা কার্যক্রম শুরু করে সরকার। ওই পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬ হাজার ১৭টি নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মোট ১৩ হাজার ৯৪৯ জন ধর্মীয় নেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মীকে প্রথমবারের মতো মাসিক সম্মানি দেওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় এবার কর্মসূচির পরিধি ব্যাপকভাবে বাড়ানো হচ্ছে। নতুন করে ৮৬ হাজার ৭০৯টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ সরাসরি সরকারি এই সুবিধার আওতায় আসবে।
সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, ধাপে ধাপে এ কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ধর্মীয় নেতাদের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তার একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরি করা হবে।