বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস ও এর পরবর্তী বৈশ্বিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, বিশ্বজুড়ে মানবতার ওপর আঘাত এখনো থেমে যায়নি।
রোববার (৯ আগস্ট) ‘হিরোশিমা ও নাগাসাকি দিবস’ উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেভ দ্য ইউথ ফোরাম ও সাকুরাজাকা জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার সেন্টার যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে জার্মানিতে হিটলারের নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান ঘটে এবং তা আক্রমণ-দখলের মাধ্যমে বিস্তৃত হয়। পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ শক্তির উত্থান যুদ্ধকে আরও ভয়াবহ সংঘাতে রূপ দেয়।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৪৫ সালের পর বিশ্বে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। চীন, কোরিয়া, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ রাজনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে এবং অনেক দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে।
হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এতে জাপানে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনো বিদ্যমান। এই ঘটনা মানবতার ওপর আঘাতের গভীরতা স্পষ্ট করে।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ উভয়ই মানবতার জন্য ধ্বংসাত্মক ছিল, তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল আরও ভয়ংকর। তিনি বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ১৯৪৮ সাল থেকে বিভিন্ন দেশ ধীরে ধীরে স্বাধীনতা লাভ করে এবং উপমহাদেশে ভারত ও পাকিস্তানের জন্ম হয়, পরে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৪৯ সালে চীনে বিপ্লবের মাধ্যমে নতুন সমাজতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কোরিয়া বিভক্ত হয়ে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ায় পরিণত হয়।
জাপানের যুদ্ধ-পরবর্তী পুনরুদ্ধারের উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ধ্বংস কাটিয়ে দেশটি আবারও উন্নয়নের পথে এগিয়ে গেছে। একইভাবে জার্মানি ও ইউরোপের অন্যান্য দেশও পুনর্গঠনের মাধ্যমে অগ্রগতি অর্জন করেছে।
বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশটি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে এবং দেশের সেনাসদস্যরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্ব পালন করছেন।
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, এটি দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ধারাবাহিকতার অংশ।
সবশেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আজও পৃথিবীতে মানবতার ওপর যে নগ্ন হামলা চলছে, তা এখনো শেষ হয়নি।”