বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লাইভ গণমাধ্যমে অংশগ্রহণের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রযাত্রার জন্য ক্ষতিকর।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দিল্লিতে অবস্থানরত "পলাতক দণ্ডিত গণহত্যাকারী" শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে সরাসরি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ "ক্ষুব্ধ"। বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে "বিষোদ্গারমূলক" বক্তব্য দিয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে আগেই ভারত সরকারকে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও অবহিত করা হয়েছিল। তবুও অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় বাংলাদেশ গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে আয়োজিত এই গণমাধ্যম-সংলাপ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অসম্মান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলিতে শিশুদেরসহ বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার বিষয়টি জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উল্লেখ করেছে। সেই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে ইতিহাস পুনর্লিখনের চেষ্টা "নিষ্ফল" বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ অতীতেও এ ধরনের প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা প্রত্যাখ্যান করবে।
জুলাই বিপ্লবের চেতনার প্রতি পুনরায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বাংলাদেশের জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে দেশ আর কখনও "ফ্যাসিবাদের অন্ধকার সময়ে" ফিরে যাবে না এবং কখনও কোনো "ক্লায়েন্ট স্টেট" হবে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আর কোনো স্থান নেই।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে গঠনমূলক, পারস্পরিক উপকারী ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
তবে ২০১৩ সালের বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের বারবার অনুরোধের এখনও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এর বিপরীতে শেখ হাসিনাকে যেকোনো অজুহাতে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে গভীর আঘাত করেছে এবং দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের বিকাশের জন্য ক্ষতিকর।