বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে সারা দেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। দিবসটি উপলক্ষে সরকার, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো শহীদদের স্মরণ, আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন স্মারক কর্মসূচির আয়োজন করে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শাহবাগে জুলাই শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং ছাত্র-জনতা।
দিবসটি উপলক্ষে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের আলোকে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে কাজ করতে হবে। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টকে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের অবসানের দিন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আন্দোলনে নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বলেন, ৫ আগস্ট স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মানুষের জন্য বিজয়ের দিন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের দিন। তিনি দাবি করেন, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে এবং বাংলাদেশ নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রবেশ করে।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বহু মানুষ গুম, হত্যা, নির্যাতন, অপহরণ ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার আইনের যথাযথ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, আন্দোলনে শহীদ ও গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিদের নামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠান নামকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। তাঁর ভাষায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত নায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।
এদিকে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, শহীদ পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তিনি বলেন, যারা আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছেন কিংবা স্থায়ীভাবে আহত হয়েছেন, তাদের পরিবার এবং পুনর্বাসনের বিষয়টি রাষ্ট্র সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত সমাবেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার, আহতদের পুনর্বাসন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া রাজধানীর গুলশানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং গত ১৭ বছরের আন্দোলনের বিভিন্ন আলোকচিত্র নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেশের সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র ও নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, বেসরকারি টেলিভিশন, এফএম ও কমিউনিটি রেডিওতে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছে।
দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও আলোচনা সভা ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে দেশের ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার ব্যবস্থা করা হয়। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়। সরকারি ও বেসরকারি জাদুঘর দর্শনার্থীদের জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত রাখা হয় এবং শিশুদের জন্য বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়। সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, শিশুসদন, পুনর্বাসন কেন্দ্র ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়।