বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
নাগরিক সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে পাসপোর্ট সরাসরি আবেদনকারীর বাসায় পৌঁছে দেওয়ার (হোম ডেলিভারি) পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ইমিগ্রেশন ও ভিসা ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে প্রচলিত স্টিকার ভিসার পরিবর্তে অনলাইন ভিসা সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাসপোর্ট বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও নাগরিকবান্ধব করতে হোম ডেলিভারি চালুর প্রস্তাব ইতোমধ্যে প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার ইউরো অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার ইউরো এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাকি ৫ লাখ ৮০ হাজার ইউরো বরাদ্দের প্রয়োজন হবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি নীতিগতভাবে ইতিবাচক বিবেচনায় রয়েছে। তবে কার্যক্রম শুরুর আগে প্রশাসনিক অনুমোদন, প্রয়োজনীয় বাজেট, নিরাপদ বিতরণব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, পাসপোর্ট যেহেতু একটি সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় নথি, তাই পরিচয় যাচাই, নিরাপদ হস্তান্তর এবং প্রতিটি ধাপ ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনা হবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দিন বলেন, হোম ডেলিভারি চালু হলে সাধারণ মানুষের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমবে। তবে ভুল ব্যক্তির হাতে পাসপোর্ট পৌঁছানো ঠেকাতে শক্তিশালী পরিচয় যাচাই, নিরাপদ চেইন অব কাস্টডি এবং ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রশাসনিক আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার জাহিদ রহমানের মতে, উদ্যোগটি জনবান্ধব হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনি জবাবদিহি, দায়িত্ব নির্ধারণ এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ পাসপোর্ট শুধু ভ্রমণ দলিল নয়, এটি রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র।
ইমিগ্রেশন ও ভিসা সেবায় গতি আনতে সরকার স্টিকার ভিসার পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর অনলাইন ভিসা সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রশাসনিক অনুমোদনের পাশাপাশি পরীক্ষামূলক (পাইলট) কার্যক্রম চালানোর প্রস্তুতি চলছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অনলাইন ভিসা চালু হলে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ভ্রমণকারীরা আরও সহজে প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন। ফলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রস্তাবে বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে ভিসা ব্যবস্থাপনা জোরদারে ১২১টি নতুন পদ সৃষ্টির অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসে পাসপোর্টবিহীন বাংলাদেশিদের জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফেরার সুবিধার্থে সব দূতাবাস থেকে ই-ট্রাভেল পারমিট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশীয় সেবার মান বাড়াতে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক, অ্যাসিস্ট্যান্ট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার ও সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের চাপ কমাতে গৌরীপুরে নতুন একটি পাসপোর্ট প্রসেসিং সেন্টার (এপিসি) স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে ভিসা ব্যবস্থাপনা আধুনিক করতে ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ কোটি টাকা আন্তঃখাত সমন্বয়ের মাধ্যমে এবং বাকি ৩ কোটি টাকা সেবা চার্জ ও রক্ষণাবেক্ষণ খাত থেকে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, অনলাইন ভিসা, ই-ট্রাভেল পারমিট এবং দক্ষ জনবল নিয়োগ—এই তিন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এসব সেবা চালুর পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানের ডেটা প্রোটেকশন নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে। একই সঙ্গে কার্যকর আইনগত কাঠামো ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা গেলে নাগরিকরা আধুনিক এই সেবার পূর্ণ সুফল ভোগ করতে পারবেন।