বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন চরম আর্থিক সংকটে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গত পাঁচ মাস ধরে কর্মীরা বেতন পাচ্ছেন না, মেলেনি ঈদ বোনাসও। রাজধানীর শাহবাগে ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ের ১২ মাসের অফিস ভাড়া বাবদ প্রায় ২৪ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। পরিচালন ব্যয়ের তহবিলে অর্থ না থাকায় দৈনন্দিন কার্যক্রম চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফাউন্ডেশন সূত্র জানায়, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের আর্থিক সহায়তা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি নিজেই টিকে থাকার সংকটে রয়েছে। ঈদুল আজহার আগে কর্মীদের কিছুটা সহায়তা দিতে ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১০ লাখ টাকা সুদমুক্ত ঋণ দেন।
জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বেতন-ভাতা, প্রশাসনিক ব্যয়, অফিস ভাড়া, যানবাহন, জ্বালানি, ভ্রমণ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ের জন্য তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সেই অর্থ দিয়েই দুই অর্থবছর কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
বর্তমানে ফাউন্ডেশনে ৩৯ জন কর্মরত রয়েছেন। বেতন না পাওয়ায় অনেক কর্মী অবৈতনিক ছুটিতে রয়েছেন, কেউ নিয়মিত অফিসে আসছেন না আবার কেউ চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।
সিইও কামাল আকবর বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বারবার যোগাযোগ করেও অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে ঋণ দিয়েছেন। তিনি নিজেও কয়েক মাস ধরে বেতন নিচ্ছেন না। তার মতে, সরকার যদি স্থায়ী ভবন নির্মাণ ও নিয়মিত পরিচালন ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ নিশ্চিত করে, তাহলে ফাউন্ডেশনের আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে নিবন্ধিত হয় জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন। একই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ১০০ কোটি টাকা অনুদানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।
ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, শহীদ ও আহতদের সহায়তায় মোট প্রয়োজন ছিল ৩৮৩ কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত সরকার ও বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া অনুদানসহ মোট ১২৪ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ১২০ কোটি টাকা জরুরি সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে ফাউন্ডেশনের হাতে অবশিষ্ট রয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। শহীদ পরিবার ও আহতদের সহায়তা অব্যাহত রাখতে আরও ২৬৩ কোটি টাকার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ পর্যন্ত ৮৩১টি শহীদ পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে এবং ৬ হাজার ১২৭ জন আহত ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৫০টি পরিবারকে পুনর্বাসনের আওতায় আনা হয়েছে এবং ২৭টি পরিবারকে বিভিন্ন জেলায় পুনর্বাসনে ৪১ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় পাঁচ হাজার শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির কাজ চলছে।
ফাউন্ডেশনের সভাপতি সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আর্থিক সংকট থাকলেও ফাউন্ডেশন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা নেই। সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের আবেদন করা হয়েছে এবং বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।