বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত -ছবি : সংগৃহীত
দেশের চলমান গ্যাস সংকট আগামী সপ্তাহ থেকে ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তার আশা, আগামী সপ্তাহে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং পরবর্তী সপ্তাহে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে বাসাবাড়ির রান্না থেকে শুরু করে শিল্প উৎপাদন সবখানেই ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য তিনি জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে জানান, এটি সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের ত্রুটির কারণে নয়; একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) কারিগরি সমস্যার কারণে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের কারিগরি দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে প্রতিদিন প্রায় ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে, যা বর্তমানে বন্ধ থাকা সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক। পরের সপ্তাহে পূর্ণ সক্ষমতায় সরবরাহ চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানিকৃত এলএনজি মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় আমদানিকৃত গ্যাসের সরবরাহ প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।
তিনি বলেন, প্রথমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশা করা হলেও পরে জটিলতা বাড়ায় আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিশেষজ্ঞ আনা হয়েছে। বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশও দ্রুত আনা হচ্ছে, যাতে মেরামতের কাজ দ্রুত শেষ করা যায়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, টার্মিনালটির একটি বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সময়মতো এলএনজি কার্গো সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে ভোলার উদ্বৃত্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা, মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানি, নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ।
এ ছাড়া দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে অফশোর অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নতুন বিডিং প্রক্রিয়াও চালু হয়েছে বলে জানান তিনি।