বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের দায়িত্ব গ্রহণ থেকে পদত্যাগ পর্যন্ত সময়জুড়ে নানা রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কের জন্ম হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া সাহাবুদ্দিন পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার এবং পরে নির্বাচিত বিএনপি সরকারেরও শপথ পরিচালনা করেন। তবে ক্ষমতার পালাবদলের প্রতিটি ধাপেই তাকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত ছিল।
বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাসের বেশি সময় পর শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জল্পনা-কল্পনারও অবসান ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবি উঠলেও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার কথা উল্লেখ করে তাকে পদে বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নেয় বিএনপি। ফলে সে সময় নানা চাপের মধ্যেও তিনি দায়িত্বে বহাল থাকেন।

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠিত হলেও শুরুতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরকারের সুসম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এমনকি এক সাক্ষাৎকারে সাহাবুদ্দিন জানান, কঠিন সময়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তার পাশে ছিল এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আন্তরিকতারও প্রশংসা করেন। তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। রাজনৈতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরকারের দূরত্ব তৈরি হয়েছে এমন আলোচনা শুরু হয়। পরে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকেই তার পদত্যাগের বিষয়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন।
মনোনয়নের পরই তার অতীত রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, ছাত্রজীবনে তিনি পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। পরে যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর তাকে কারাবরণও করতে হয়। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনে তিনি কতটা নিরপেক্ষ থাকতে পারবেন এ প্রশ্নে তখন রাজনৈতিক মহলে নানা মতামত ও সমালোচনা দেখা দেয়। রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তার অতীত পেশাগত দায়িত্ব নিয়েও আইনি বিতর্ক তৈরি হয়।
তিনি একসময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার এবং পরে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। দুদক আইনের একটি বিধানকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন ওঠে, কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব শেষে তিনি রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদে আসীন হতে পারবেন কি না। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালেও হাইকোর্ট তার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বৈধতার বিরুদ্ধে করা রিট খারিজ করে দেন।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সবচেয়ে বড় বিতর্কের জন্ম দেয় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র প্রসঙ্গ। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, শেখ হাসিনা তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু কয়েক মাস পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার কাছে সেই পদত্যাগপত্রের কোনো অফিসিয়াল কপি নেই। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠন তার পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলনও গড়ে তোলে। পরে বঙ্গভবন থেকে এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে নতুন বিতর্ক না তৈরির আহ্বান জানানো হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা ছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাহাবুদ্দিন জানান, সংসদ নির্বাচন শেষে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগের ইচ্ছা তার রয়েছে। সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু সিদ্ধান্তে তিনি নিজেকে উপেক্ষিত ও অসম্মানিত মনে করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দীর্ঘদিন সাক্ষাৎ না হওয়া, রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং সংকুচিত করা এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলো থেকে রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি সরিয়ে দেওয়ার মতো বিষয়ও আলোচনায় আসে। সবশেষে রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান মো. সাহাবুদ্দিন। দায়িত্ব গ্রহণ থেকে বিদায় পর্যন্ত নানা বিতর্কে আলোচিত এই অধ্যায়ের মধ্য দিয়েই শেষ হয় তার রাষ্ট্রপতির মেয়াদ।