বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনাময় খাত হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রযুক্তিনির্ভর, স্বনির্ভর ও উদ্ভাবনভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে সরকার সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে জাতীয় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং এ খাতের বিকাশে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও অবকাঠামোগত সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শুধু একটি শিল্প নয়, বরং চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের মূলভিত্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, ডেটা সেন্টার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, চিকিৎসা প্রযুক্তি, স্মার্ট ডিভাইস, মহাকাশ প্রযুক্তি সব ক্ষেত্রেই সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য।
তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, ভেরিফিকেশন, এমবেডেড সিস্টেম, পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স, অ্যাডভান্সড প্যাকেজিং ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারেও নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিচ্ছে।
বিশ্ববাজারে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যেই এ খাতের বৈশ্বিক বাজার প্রায় ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে। এই বিশাল বাজারে বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ রয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাত থেকে উল্লেখযোগ্য রপ্তানি আয় অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের উন্নয়ন কোনো একক মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। এটি একটি জাতীয় মিশন যেখানে সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্প উদ্যোক্তা এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিদদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
এ খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সরকার ইতোমধ্যে একাধিক নীতিগত সুবিধা দিয়েছে। চলতি বাজেটে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর থেকে সব ধরনের কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সেবার রপ্তানি আয়ের ওপর নগদ প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তরুণ উদ্ভাবকদের উৎসাহ দিতে সরকার প্রথমবারের মতো ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ অনুদান’ চালু করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে এই অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিনিয়োগবান্ধব নীতি, কর-সুবিধা, বন্ডেড সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যমান হাই-টেক পার্কগুলোর আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া একটি নতুন বায়োটেক পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মেধাবী ও উদ্ভাবনী তরুণ প্রজন্ম। তাদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সামিটের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং গবেষণা সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে যা দেশের প্রযুক্তি শিল্পকে আরও এগিয়ে নেবে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং পরে ‘বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’ পরিদর্শন করেন। এক্সপোতে ৩৫টি স্টলে শিক্ষার্থী, গবেষক ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবিত সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি, ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেম এবং অন্যান্য ডিপ-টেক উদ্ভাবন প্রদর্শিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী এসব স্টল ঘুরে দেখে তরুণ উদ্ভাবকদের কাজের প্রশংসা করেন এবং প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উদ্ভাবনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।