বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিতে বাংলাদেশ পুলিশের ৫৩০ সদস্যের তিনটি কন্টিনজেন্ট প্রস্তুত করা হচ্ছে। টাঙ্গাইলের মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে (পিটিসি) কয়েক দফা বাছাই শেষে তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে আগামী সেপ্টেম্বরে তারা হাইতির উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মিশনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি ও সমন্বয় কার্যক্রম তদারক করতে বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল হাইতি এবং জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অবস্থান করছে।
জাতিসংঘের বাজেট সংকটের কারণে যখন বিভিন্ন দেশের শান্তিরক্ষী সদস্য সংখ্যা কমানো হচ্ছে, তখন বাংলাদেশ থেকে একসঙ্গে ৫৩০ জন পুলিশ সদস্যের হাইতি মিশনে অংশগ্রহণকে আন্তর্জাতিক পরিসরে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এবারের কন্টিনজেন্টে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল, সোয়াট, সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ ইউনিট, ফরেনসিক, অর্গানাইজড ক্রাইম, নৌ পুলিশ ক্রাইম সিন এবং ভিআইপি প্রটেকশন ইউনিটের সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

বাংলাদেশ পুলিশ ১৯৮৯ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে আসছে। গত ৩৭ বছরে পুলিশের ২১ হাজার ৮১৬ জন সদস্য বিশ্বের বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ২০ জন সদস্য ইন্ডিভিজ্যুয়াল পুলিশ অফিসার (আইপিও) হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। তবে এই মুহূর্তে বাংলাদেশ পুলিশের কোনো পূর্ণাঙ্গ কন্টিনজেন্ট মিশনে নেই। হাইতিগামী সদস্যরা ফর্মড পুলিশ ইউনিট (এফপিইউ) হিসেবে কাজ করবেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো থেকে বাংলাদেশ পুলিশের কন্টিনজেন্ট প্রত্যাহার করা হয়। জাতিসংঘের আর্থিক সংকট এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের পুলিশ ও সেনা সদস্য সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ওই সময় প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার শান্তিরক্ষী সদস্যকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল।
বর্তমান কন্টিনজেন্টে প্রায় ৩২ জন সোয়াট সদস্য থাকবেন। পাশাপাশি প্রতিটি বিশেষায়িত ইউনিট থেকে অন্তত পাঁচজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনটি ইউনিটের নেতৃত্বে থাকবেন তিনজন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা। এছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পরিদর্শক, এসআই ও কনস্টেবল পদমর্যাদার সদস্যরাও এই দলে রয়েছেন।

পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ মিশনে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ২৪ জন সদস্য জীবন দিয়েছেন এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন।
শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যরা সাধারণত মাসিক ২ হাজার থেকে ৭ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভাতা পান। এছাড়া যানবাহন, অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহারের বিপরীতে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধাও পাওয়া যায়।