বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ এখন পুরোদমে এগোচ্ছে। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের শেয়ার সংক্রান্ত বিরোধ, অর্থসংকট এবং আদালতের স্থগিতাদেশের মতো একাধিক জটিলতা কাটিয়ে প্রকল্পটির সার্বিক ভৌত অগ্রগতি এখন ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বর্তমান গতিতে কাজ চললে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই বহুল প্রতীক্ষিত পান্থকুঞ্জ পার্ক-সংলগ্ন র্যাম্প যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।
প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে বনানী পর্যন্ত প্রথম ধাপের ৯৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ, বনানী থেকে মগবাজার পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপের ৮৪ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং মগবাজার থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত তৃতীয় ধাপের ২০ দশমিক ৪৩ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কারওয়ান বাজার রেলগেট থেকে মগবাজার, ওয়্যারলেস ও মালিবাগ পর্যন্ত অধিকাংশ অংশে পিলার, গার্ডার স্থাপন এবং কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। কারওয়ান বাজার থেকে পান্থকুঞ্জ পার্ক পর্যন্ত সংযোগ র্যাম্পের পিলার নির্মাণও শেষ হয়েছে। পান্থকুঞ্জ এলাকায় এসে র্যাম্পটি দুটি অংশে বিভক্ত হবে একটি পলাশীর দিকে এবং অন্যটি বিমানবন্দরমুখী পথে যুক্ত হবে।
এদিকে মালিবাগ থেকে খিলগাঁও পর্যন্ত পিলার ও গার্ডার স্থাপনের কাজও দ্রুত এগোচ্ছে। কমলাপুর স্টেশন ইয়ার্ড এবং যাত্রাবাড়ী অংশেও পিলার, ক্রস বিম ও গার্ডার নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। তবে খিলগাঁও ফ্লাইওভার এলাকায় এখনও কিছু কাজ বাকি রয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক এ এইচ এম এস আকতার জানান, পান্থকুঞ্জ ও হাতিরঝিল অংশে প্রায় এক বছর কাজ বন্ধ থাকায় প্রকল্পের সময়সূচিতে প্রভাব পড়েছিল। বর্তমানে সেখানে পূর্ণগতিতে কাজ চলছে। তিনি বলেন, আমাদের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় আছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের অগ্রযাত্রা শুরু থেকেই ছিল নানা বাধায় পরিপূর্ণ। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) ভিত্তিক এই প্রকল্পে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও শেয়ার নিয়ে বিরোধের জেরে চীনের এক্সিম ব্যাংক ঋণের অর্থ ছাড় স্থগিত করে। ফলে মালিবাগ থেকে কুতুবখালী অংশের নির্মাণকাজ প্রায় দেড় বছর কার্যত বন্ধ ছিল।
এ ছাড়া পান্থকুঞ্জ পার্ক ও হাতিরঝিল এলাকায় পরিবেশগত ক্ষতির অভিযোগ তুলে দায়ের করা রিটের পর আদালতের নির্দেশে প্রায় এক বছর ওই অংশের কাজ বন্ধ রাখতে হয়। পরে নির্দিষ্ট শর্তে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে ২০২৬ সালের শুরুতে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু হয়।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান মনে করেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পূর্ণ সুফল পেতে হলে এটি ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে একই সময়ে যুক্ত করা জরুরি। এতে উত্তরবঙ্গ থেকে আসা ভারী যানবাহন রাজধানীতে প্রবেশ না করেই দক্ষিণাঞ্চল ও চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে যেতে পারবে, ফলে ঢাকার যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে ভূমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং প্রশাসনিক জটিলতার সমাধান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে বিনিয়োগকারীরা নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করতে পারবেন এবং রাষ্ট্রও দ্রুত অবকাঠামোর সুফল পাবে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, বাকি কাজও পরিকল্পনা অনুযায়ী শেষ হলে দেশের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে রাজধানীর যানজট নিরসন, দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং জাতীয় অর্থনীতির গতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।