বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

সংগৃহীত ছবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে কোমলমতি শিশুদের মানবিক, নৈতিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আর এ দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর বর্তায়। কারণ তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার প্রকৃত কারিগর।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান এবং দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক বাংলাদেশ গঠনের জন্য যে ‘সৈনিকদের’ প্রয়োজন, তারা আজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেই রয়েছে। শিক্ষকরাই তাদের মধ্যে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মূল্যবোধ, দেশপ্রেম এবং মানবিকতার বীজ বপন করবেন। তিনি বলেন, শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষা নয়, শিশুদের পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ, সংস্কৃতি, খেলাধুলা এবং প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার শিক্ষা দিতে হবে। একটি শক্তিশালী ও মানবিক জাতি গঠনে এসব গুণ অপরিহার্য।
তারেক রহমান জানান, সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণা আরও বিস্তৃত করতে কাজ করছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল বিকাশ এবং আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কোনো বিকল্প নেই। এসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ তাদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহায়ক।
পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি বর্ষায় দেশজুড়ে প্রায় দুই লাখ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তিনি প্রতিটি শিশুকে ২০ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি বর্ষায় অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রাণী ও প্রকৃতির প্রতি মমত্ববোধ গড়ে তুলতে বিদ্যালয়ে ছোট ছোট দলে বিভক্ত করে পোষা প্রাণীর পরিচর্যার মতো কার্যক্রম চালুরও পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও ঘোষণা দেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নতুন স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে। এছাড়া মেয়েদের উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণে অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মেধাবী ছাত্রীদের জন্য নতুন স্কলারশিপ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ তুলে দেওয়া হয়। এতে দেশের ৬৪ জেলার প্রতিনিধি এবং দেশের বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভার্চুয়ালি অংশ নেয়।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা ও প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।