বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নয়, নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, দায়িত্বশীল আচরণ এবং সচেতনতার মাধ্যমেই একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, নগরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; এটি নাগরিক ও সরকারের যৌথ দায়িত্ব। নগরকে বাসযোগ্য রাখতে প্রত্যেক নাগরিককে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আয়োজিত ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: আমার-আপনার সকলের দায়িত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ঢাকা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হলেও দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অপরিকল্পিত সম্প্রসারণের কারণে নগর ব্যবস্থাপনা দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতায় শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই চলবে না; নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ঢাকার দ্রুত নগরায়নের ফলে এখানে নগর ও গ্রামীণ—দুই ধরনের সংস্কৃতির প্রভাব রয়েছে। অনেক মানুষ এখনও পূর্ণাঙ্গ নগরজীবনের নিয়ম-শৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়িত্ব পালনের সংস্কৃতির সঙ্গে পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেননি। ফলে নগরকে পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল রাখতে নাগরিকদের আচরণগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মানুষ যখন বুঝতে পারে আইন ভঙ্গ করলে তাকে জবাবদিহি করতে হবে তখন তারা স্বাভাবিকভাবেই নিয়ম মেনে চলে। উদাহরণ হিসেবে তিনি রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা এবং স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক নজরদারির আওতায় থাকা সড়কের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে চালকেরা ট্রাফিক আইন বেশি মেনে চলেন, কারণ তারা জানেন নিয়ম ভাঙলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা দিতে হবে। এই ধরনের জবাবদিহি ও দায়িত্ববোধই একটি উন্নত নাগরিক সমাজ গঠনের ভিত্তি।
তিনি আরও বলেন, ঢাকার দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধানে সিটি করপোরেশন, রাজউক, ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিভাগসহ নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে মানুষের আচরণগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শুধু আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। গণমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক প্রচারণা এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ রক্ষা এবং নাগরিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
রাজধানীর নদীগুলোর বর্তমান অবস্থার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, একসময় বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ছিল স্বচ্ছ ও নির্মল। মানুষ নৌকায় ভ্রমণ করত। কিন্তু বর্তমানে দূষণের কারণে নদীর পাশে দাঁড়ানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, বুড়িগঙ্গার তলদেশে প্রায় ছয় মিটার পুরু বর্জ্যের স্তর জমে রয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
নদী পুনরুদ্ধারে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তুরাগ নদী পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকার অস্তিত্ব, পরিবেশগত ভারসাম্য ও টেকসই ভবিষ্যৎ অনেকাংশেই চারপাশের নদীগুলোর সুস্থতার ওপর নির্ভরশীল।
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ায় বিকল্প উৎস থেকে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, মেঘনা নদী থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি লিটার পানি ঢাকায় সরবরাহের একটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীকে দূষণমুক্ত ও পুনরুদ্ধার করা গেলে ঢাকা পরিবেশ, অর্থনীতি এবং পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। তবে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ, নিয়ম মেনে চলা এবং পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।