বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি সংগৃহীত
টানা বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। চট্টগ্রামে পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে লাখো মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। ইতোমধ্যে সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রংপুর বিভাগের নীলফামারীতে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে গেছে। ডিমলার ডালিয়া পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে প্লাবন শুরু হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ফেনীতেও পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মুহুরী নদীর পানি কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যদিও এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি, তবে নদীতীরবর্তী মানুষ নতুন করে বাঁধ ভেঙে বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, বন্যা, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪ জনে পৌঁছেছে। বর্তমানে সাত জেলায় দেড় লাখের বেশি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছয় লাখ ছাড়িয়েছে। দেশের ৫৯টি উপজেলা, ৩৩৪টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা এখনো বন্যাকবলিত। দুর্গতদের আশ্রয়ের জন্য এক হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।
বন্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। এ পরিস্থিতিতে বন্যাকবলিত ১১ জেলার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে সরকার।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম এবং মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পানিবাহিত রোগ ও সাপে কাটার ঘটনা মোকাবিলায়ও বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া ও বন্যা পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েক দিন সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর বিভাগ এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি আরও বাড়ার পাশাপাশি নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।