বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ পুলিশের আলোচিত ও বিতর্কিত বহু কর্মকর্তার অবস্থান ও কর্মজীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। একসময় বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এসব কর্মকর্তার কেউ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, কেউ চাকরি হারিয়েছেন বা বাধ্যতামূলক অবসরে গেছেন, আবার অনেকে দেশ ছেড়ে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশের একাধিক সূত্রের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর অন্তত ৫৭ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্মস্থলে আর যোগ দেননি। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, গুম, হত্যা, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় অনেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দেশত্যাগকারী কর্মকর্তাদের অনেকে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নরওয়ে, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। কারও কারও নেপাল হয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী সমন্বয়কদের আটকে রাখার অভিযোগে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। এছাড়া আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সূত্রগুলোর দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর তিনি দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান। তার স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ায় সেখানে অবস্থান করা সহজ হয় বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন। বর্তমানে তিনি জনসমক্ষে খুব কমই আসেন বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় পদকও বাতিল হয়েছে।
ডিবির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারের বিরুদ্ধেও আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকার অভিযোগ রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি ভারতে চলে যান বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। পরে তাকে পুলিশ বাহিনী থেকেও বরখাস্ত করা হয়।
পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী মতাবলম্বীদের আটক, গোপন নির্যাতন এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি, তিনি প্রথমে ভারতে এবং পরে অন্য একটি দেশে চলে যান। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার মেহেদী হাসান, এসপি খন্দকার নুরুন্নবী, এসপি সঞ্জিত কুমার রায়, এসপি প্রলয় জোয়াদ্দার, এডিসি নাজমুল ইসলাম এবং বনানী থানার সাবেক ওসি বিএম ফরমান আলীসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তার অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেলেও তারা এখনো প্রকাশ্যে আসেননি।

অন্যদিকে কয়েকজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বিভিন্ন হত্যা ও অন্যান্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ইকবাল বাহার, ডিবির সাবেক ডিসি মশিউর রহমান, এডিসি জুয়েল রানা, এসপি তানভীর সালেহীনসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন মামলায়ও কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার চলছে বা রায় হয়েছে।
ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিব, ওয়ারী বিভাগের সাবেক ডিসি মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন এবং সিটিটিসির সাবেক প্রধান ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান বর্তমানে পলাতক বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে বরখাস্ত, বাধ্যতামূলক অবসর কিংবা বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।