বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা আরও বাড়াতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। এর আওতায় দুর্যোগ প্রস্তুতি ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজন হলে আর্থিক সহায়তাও পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে এ সমঝোতা স্মারকে সই করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। যুক্তরাজ্যের পক্ষে সই করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার সারাহ কুক।
সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের মতো দুর্যোগপ্রবণ দেশের জন্য এই সমঝোতা স্মারক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কোনো একটি নির্দিষ্ট দুর্যোগকে কেন্দ্র করে নয়; ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, বজ্রপাত, ভূমিকম্পসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আওতাধীন যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করবে।
তিনি বলেন, এই সহযোগিতার আওতায় বাংলাদেশ প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহায়তা, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্রয়োজন হলে আর্থিক সহায়তাও পেতে পারে। বাংলাদেশের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা এরই মধ্যে অনেক বেড়েছে, তবে নতুন এই অংশীদারত্ব সেই সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগঝুঁকিপূর্ণ দেশ। বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয়। তাই দুর্যোগ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি আগাম প্রস্তুতি জোরদার করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সমঝোতা ভবিষ্যতে সেই প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর করবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, সমঝোতা স্মারকটি যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সহায়তা করার জন্য একটি কার্যকর সহযোগিতা কাঠামো তৈরি করবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রয়োজনীয় জনবল সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত তথ্য বিনিময় এবং জ্ঞান স্থানান্তরের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।
তিনি বলেন, দুর্যোগের জন্য অপেক্ষা করে পরে ব্যবস্থা নিলে চলবে না। আগেই প্রস্তুত থাকতে হবে। এ কারণেই দুর্যোগ প্রস্তুতি সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলোর একটি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান, সঠিক প্রযুক্তিগত সহায়তা, দক্ষ জনবল এবং সমন্বিত প্রস্তুতির মাধ্যমে বাংলাদেশ যেন যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকে।
হুমায়ুন কবির জানান, এই সমঝোতা স্মারক শুধু ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডের মতো নির্দিষ্ট দুর্যোগে সীমাবদ্ধ নয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আওতায় পড়া যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সহযোগিতার সুযোগ থাকবে। প্রয়োজন দেখা দিলে আর্থিক সহায়তা চাওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। তবে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রযুক্তিগত সহায়তা, জ্ঞান স্থানান্তর, যৌথ প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর।
তিনি আরও বলেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়বে। ফলে ভবিষ্যতে দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও কার্যকর ও সমন্বিত প্রস্তুতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ২০১০ সাল থেকে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদারে প্রায় ৬ কোটি পাউন্ড সহায়তা দিয়েছে। নতুন এই সমঝোতা দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, মানবিক সহায়তা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার একটি কাঠামো তৈরি করবে।
সারাহ কুক বলেন, এই অংশীদারত্ব অতীতের সফল সহযোগিতার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ঝুঁকি হ্রাসে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে যুক্তরাজ্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।