বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এ সময়ে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ১২ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের স্বাক্ষরিত সর্বশেষ বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি পানি পরিমাপ কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, ৮৬টিতে কমেছে এবং তিনটিতে পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে। কোনো নদীই এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারী এবং সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়েছে। আগামী চার দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে উজানের ঢল ও স্থানীয় বৃষ্টির কারণে নদ-নদীর পানি আরও দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ভারতের উড়িষ্যা ও পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থান করা মৌসুমি নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামে। এছাড়া নারায়ণহাটে ১৬৫, টেকনাফে ১৫৮, কক্সবাজারে ১২৯, রামগড়ে ১০৫, বান্দরবানে ১০২, সুনামগঞ্জের মহেশখোলায় ১০১, পাঁচপুকুরিয়ায় ৯৫, লামায় ৯৩ এবং ফেনীর পরশুরামে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

ভারতের মেঘালয়ের মাওকিরওয়াতে ১৫৩ মিলিমিটার, কে এম সোহরায় ১৪১ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে ১৩৩ মিলিমিটার এবং দক্ষিণ ত্রিপুরার সাবরামে ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। উজানের এসব বৃষ্টিপাত বাংলাদেশের নদ-নদীর পানির প্রবাহ বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কয়েকটি স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পস্থায়ী বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিচু এলাকাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রংপুর বিভাগে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সময়ে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কিছু স্থানে সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি আগামী তিন দিন কমে পরবর্তী দুই দিনে বাড়তে পারে। গঙ্গার পানি কয়েক দিন স্থিতিশীল থাকার পর ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। তবে পদ্মা নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন কমতে পারে। সব মিলিয়ে প্রধান নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচেই থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।