বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

প্রতীকী ছবি
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। সচিব কমিটির আলোচনায় মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব গুরুত্ব পেয়েছে। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়বে না; নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পেতে পারেন।
সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। এতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে কমিটির আরও একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সচিব কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে পারে।
সূত্রগুলোর দাবি, শুধু মূল বেতন নয়; বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবও রয়েছে। কয়েকটি বিদ্যমান ভাতা একীভূত করার পাশাপাশি নতুন কিছু সুবিধা যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে পেনশন ও অবসর-সুবিধার কাঠামোতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। সে কারণে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে, প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রতিবছর নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হলেও নতুন কোনো পে-স্কেল কার্যকর হয়নি।
জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ চলতি বছরের শুরুতে সরকারের কাছে যে প্রতিবেদন জমা দেয় সেখানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা এবং যাতায়াত ভাতায়ও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন পর নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়ন হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তারা শুধু মূল বেতন বৃদ্ধি নয়, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাতা, পেনশন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বাস্তবসম্মত সংস্কারও চান।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ খাতে মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা সংরক্ষণ করা হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে। ফলে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের আগ পর্যন্ত সুপারিশে পরিবর্তনের সুযোগ থাকছে।