বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার ছাড়া কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার প্রকৃত অবসান সম্ভব নয়। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা তারেক রহমানের সামনে শহীদ পরিবারের সদস্যরা এসব দাবি জানান।
‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ ও ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শতাধিক শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রিয়জন হারানোর বেদনা, বিচারহীনতার ক্ষোভ এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার কথা তুলে ধরতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা আব্দুল রব মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, জুলাই এলেই চোখের পানির বাঁধ ভেঙে যায়। ৫ আগস্ট আমার ছেলের বুক গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছিল। আমি একজন হতভাগা বাবা। এই অন্যায়ের বিচার চাই, প্রতিটি জুলাই শহীদের হত্যার বিচার চাই।
চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, আমার ছেলে আর ফিরে আসবে না। কিন্তু আর কোনো বাবা-মায়ের কোল যেন খালি না হয়। যারা আহত হয়ে হাত-পা হারিয়েছেন, তাদের যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন বলেন, আমার ভাইয়ের আত্মত্যাগ আরও অনেককে অনুপ্রাণিত করেছে। অনেক পরিবার তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরকারের কাছে আবেদন, এসব পরিবারের পাশে দাঁড়ান এবং হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করুন। পাশাপাশি সারা দেশে জুলাই যোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, বড় ছেলে নিহত হওয়ার পর ছোট ছেলের ক্যান্সার ধরা পড়ে। সেই সময় তিনি চরম অসহায় অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, আমার সন্তান আর ফিরে আসবে না। আমি চাই, সব জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য যেন প্রয়োজনীয় সহায়তা পান এবং হত্যার বিচার নিশ্চিত হয়।
শহীদ আলভীর বাবা আবুল হাসান বলেন, দুই বছর পার হলেও বিচার দৃশ্যমান হয়নি। বিচারের দাবিতে আমরা রাজপথে আন্দোলন করেছি, কিন্তু আশানুরূপ অগ্রগতি দেখিনি। আমরা ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছি।
দুই পা হারানো জুলাই যোদ্ধা শাহীন মালু বলেন, দুটি পা হারিয়েছি, তবু দুঃখ নেই। শুধু চাই, জীবিত অবস্থায় জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দেখে যেতে।
আহত জুলাই যোদ্ধা মিল্লাত হোসেন বলেন, আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর যথাসময়ে চিকিৎসাও পাননি। তিনি বলেন, আমরা শুধু জুলাইয়ের নয়, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের যোদ্ধা। আমাদের একটাই দাবি সব হত্যাকাণ্ডের বিচার।
আহত সুজন মোল্লা বলেন, জুলাই শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের ত্যাগের পূর্ণ মর্যাদা তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হবে।
আহত আলামিন বলেন, আন্দোলনে আহত হয়ে একটি হাত হারানোর পরও এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাননি। তিনি হাত-পা হারানো যোদ্ধাদের উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবি জানান।
জুলাই যোদ্ধা মেহেদী হাসান মিরাজ অভিযোগ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেক প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানান।
সম্মেলনের মূলমন্ত্র ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জুলাই আন্দোলনের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
পরে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে স্মৃতি স্মারক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকেও তার হাতে একটি স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সরকারের মন্ত্রী, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।