বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ৫ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে জাদুঘরের কার্যক্রমের সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পর গণভবনে স্থাপিত জাদুঘরটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
এর আগে একাধিকবার উদ্বোধনের সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করা হলেও বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এবার নির্ধারিত তারিখে জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে জাদুঘর চালুর আগেই এর জনবল কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
জানা গেছে, মোট ৯৬টি পদের বিপরীতে প্রায় ১৫ হাজার চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছেন। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি না হওয়ায় জাদুঘর চালুর পর প্রয়োজনীয় জনবল দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা কীভাবে হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বুধবার সচিবালয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
বৈঠক শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব বলেন, উদ্বোধন সামনে রেখে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো শেষ মুহূর্তের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। প্রদর্শনীর উপকরণ সংযোজন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল কনটেন্ট স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, শহীদের আত্মত্যাগ, আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের আলোকচিত্র, ভিডিও, দলিল-দস্তাবেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো তুলে ধরাই হবে এই জাদুঘরের প্রধান লক্ষ্য। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, কূটনীতিক, শহীদ পরিবারের সদস্য, আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট নাগরিকের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। উদ্বোধনের পর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সাধারণ দর্শনার্থীর জন্য জাদুঘরটি খুলে দেওয়া হবে। শিক্ষার্থী, গবেষক এবং ইতিহাস-আগ্রহীদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি ও গাইডেড ট্যুরের ব্যবস্থাও থাকবে। প্রবেশের টিকিট সংগ্রহ করা যাবে অনলাইনে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও একাধিকবার উদ্বোধনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাদুঘরটি একাধিকবার পরিদর্শন করে দ্রুত খুলে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। যদিও সেই নির্দেশনাও আলোর মুখ দেখেনি। গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানিয়েছিলেন, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট উদ্বোধন করা হবে। তবে তা আর হয়নি। পরে বিদেশি কূটনীতিকদেরও জাদুঘর পরিদর্শনে নেওয়া হয় যা প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।
এদিকে গত ১২ মে জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছিলেন, আগামী ৫ আগস্টের মধ্যেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। আগস্টেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই জাদুঘর উদ্বোধন করবেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও সংসদে তা জানিয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের ৯৬ পদে নিয়োগের জন্য গত ২৯ জানুয়ারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদনের সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই নিয়োগের পরীক্ষার তারিখ ৫ মাসেও ঘোষণা হয়নি।
গত ফেব্রুয়ারিতে লিখিত পরীক্ষা ছাড়া সরাসরি মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হলে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন চাকরিপ্রার্থীরা। এরপর জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, জাদুঘরের ৯৬টি পদে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা গত ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। এরপর থেকে এই নিয়োগের কোনো অগ্রগতি নেই। জানা যায়, জাতীয় জাদুঘরের ১৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। জুলাই জাদুঘর চালু হলে এই ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।
জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব বলেন, ৯৬ পদের বিপরীতে প্রায় ১৫ হাজার প্রার্থী আবেদন করেছেন। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই চলছে। নিয়োগের জন্য তাড়াহুড়া করা হচ্ছে না। তবে ৫ আগস্টের আগে আউটসোর্সিং মাধ্যমে কিছু জনবল নিয়োগ দেওয়ার কাজ চলছে।
বুধবার রায়েরবাজারে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গণকবর জিয়ারত শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর দর্শনার্থীর জন্য খুলে দিতে হবে। এ সময়ের মধ্যে জাদুঘর চালু না হলে জনগণ নিজেরাই তা খুলে প্রবেশ করবে।