বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

সংগৃহীত ছবি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও আদর্শ নতুন প্রজন্মসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬–২০২৭’ উদযাপনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নজরুলচর্চা কেবল সরকারি অনুষ্ঠান বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। তার সাহিত্য, মানবতাবাদ, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা সাধারণ মানুষের জীবন ও সমাজে আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে।
সরকার জানিয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম বর্তমান বাংলাদেশের বাইরে হলেও তার কর্মজীবন ও সৃষ্টির সঙ্গে এ দেশের মানুষের গভীর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। ১৯১৪ সালে কৈশোরে তিনি প্রথম ময়মনসিংহের ত্রিশালে আসেন যা আজও তার স্মৃতিবিজড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত।
এ প্রেক্ষাপটে কবির স্মৃতিধন্য ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাব্যতা যাচাই করছে সরকার। পাশাপাশি ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। বছরজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সাহিত্যিক ও গবেষণাধর্মী কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় কবির জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘বিদ্রোহী কবি, প্রেমের কবি, বিরহের কবি, তারুণ্যের কবি, বাংলাদেশের ঐতিহ্যের কবি, কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় সাহিত্য সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম। পরাধীন, পর্যুদস্ত, পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তার আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো। অন্যায়, শোষণ, বৈষম্য ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কবির কলম ছিল শানিত অস্ত্র। প্রেম, প্রকৃতি থেকে শুরু করে ইসলামী মূল্যবোধ কিংবা শ্যামা সংগীত প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরুল আমাদের শুদ্ধ প্রকাশের নামান্তর।
তিনি বলেন, আমাদের জীবন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য তার রচনার মধ্যে মহিমাময় সৌন্দর্য নিয়ে বাক্সময় হয়েছে। কবি নজরুলের সৃষ্টিশীলতার মধ্যে আতিথ্য রয়েছে সকল কালের, সকল মানুষের। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা। তার প্রাসঙ্গিকতা এবং প্রয়োজন ফুরানোর নয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক ও শিল্পীদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে আবদ্ধ ঘরে বসে এই কর্মসূচি উদ্বোধন করাটা তার প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি মেলেনি। আমন্ত্রণপত্রে বিভাগীয় কমিশনার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ভার্চুয়ালি যুক্ত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ থাকায় তিনি কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, এর পরিবর্তে আমন্ত্রণ পত্রে যদি লেখা থাকতো ‘সকল বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে নজরুল গবেষক, নজরুল শিল্পী, নজরুলপ্রেমীগণ ভার্চুয়ালী সংযুক্ত থাকবেন সেটি বরং বেশি যৌক্তিক এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো বলে আমার বিশ্বাস।
তিনি আরও যোগ করেন, আমার এই উপলব্ধির কারণ হলো, ফ্যামিলি কার্ড কিংবা কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যদি বলা হয় ‘নজরুল গবেষক নজরুল শিল্পী নজরুলপ্রেমী মানুষেরা ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থাকবেন’ এটি যেমন অনুষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়না ঠিক একইভাবে একই কারণে নজরুল বর্ষ উদযাপনে ‘সকল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থাকবেন’ কথাটিও উদ্দেশ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হওয়ার যৌক্তিক কারণ রয়েছে।
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তরুণ প্রজন্মকে নজরুলের নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি নজরুলের ‘আমি হবো সকাল বেলার পাখি’ কিংবা ‘থাকবো নাকো বদ্ধ ঘরে’ কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, এই ধরনের ছড়া বা কবিতা বর্তমান প্রজন্মের জন্য আশা জাগানিয়া আলোকবর্তিকা।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, কবির সাহিত্যকর্ম যেন কেবল মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের চার দেয়ালে আটকে না থাকে। কবি নজরুলের উক্তি, আমি গেলে যারা আমার পতাকা ধরিবে বিপুল বলে- সেই সে অগ্রপথিকের দল এসো এসো পথতলে’ এই চেতনা ধারণ করে তার জীবনবোধ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে শুধু বিভিন্ন বিশেষণে সীমাবদ্ধ না রেখে তাকে ‘বাংলাদেশের মন’ হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, নজরুলের সাম্য, মানবতা ও সম্প্রীতির দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। কবির ভাষায় ‘গাহি সাম্যের গান, যেখানে এসে মিলেছে সব বাধা-ব্যবধান; যেখানে হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম ও খ্রিস্টান একসূত্রে আবদ্ধ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভেদ সৃষ্টির নানা অপচেষ্টা থাকলেও বাংলাদেশের মানুষের ঐতিহ্য মিলেমিশে বসবাস করার। সেই চেতনাকেই ধারণ করে বর্তমান সরকার এমন একটি রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে, যেখানে ধর্ম, বর্ণ বা পরিচয়ের ভিন্নতা নির্বিশেষে সবাই নিরাপদ ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারবেন এবং কোনো মানুষ কিংবা প্রাণীই সহিংসতার শিকার হবে না।
তিনি জানান, ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে সারা দেশে সাহিত্য সম্মেলন, সেমিনার, সংগীতানুষ্ঠান, নাট্যোৎসবসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে জাতীয় কবির সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬–২০২৭’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন ও সৃজনশীল অবদান নতুনভাবে মূল্যায়িত হবে।