বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি :;সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সংযোজনের মাধ্যমে অর্থ বিল-২০২৬ পাস হয়েছে। নতুন সংশোধনীর ফলে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগের উৎস ও সম্পদের তথ্য প্রকাশসংক্রান্ত বিতর্কিত প্রস্তাব প্রত্যাহার করেছে সরকার।
সোমবার বিকেলে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি সংসদে উপস্থাপন করলে স্পিকারের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে তা অনুমোদন পায়।
সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ টাকা। পরবর্তী দুই অর্থবছরে এ সীমা হবে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৫ লাখ টাকায়।
অর্থমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগ সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশের বিধান নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় সরকার তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করা এবং পার্টিশন ডিড ও নামজারি নিবন্ধনে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও বাদ দেওয়া হয়েছে।
উচ্চশিক্ষা খাতে স্বস্তি এনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়কর হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চল ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান কর-সুবিধা আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
শিল্প ও রপ্তানি খাতকে উৎসাহ দিতে বিভিন্ন কাঁচামাল ও উৎপাদন উপকরণের ওপর শুল্ক ও কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিংড়ি শিল্পে ব্যবহৃত খাদ্য, ভিটামিন, প্রোবায়োটিক ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির আমদানিতে বিভিন্ন ধরনের শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।
এছাড়া দেশীয় শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। পিভিসি ও পিইটি রেজিনের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। শিল্পে ব্যবহৃত কিছু স্টিল পণ্য, কপার ওয়্যার ও ফায়ার ডোর তৈরির উপকরণের ওপর প্রস্তাবিত নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ডিজিটাল খাতে আনুষ্ঠানিক অর্থপ্রদান উৎসাহিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন মার্কেটপ্লেস, সার্চ ইঞ্জিন ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে স্থানীয় মোটরগাড়ি শিল্পের বিকাশে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত ডাবল কেবিন পিকআপ ও মাইক্রোবাসের ওপর ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাছ সরবরাহে পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতি এবং বিটিআরসির সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি চুক্তির ওপর ভ্যাট ছাড়ের প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সরকারের আশা, এসব সংশোধনী কর পরিপালন সহজ করবে, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করবে এবং শিল্প ও ব্যবসা খাতের প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।