বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান -ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদকে ব্যক্তিপূজা বা তোষামোদের মঞ্চে পরিণত না করে জনগণের স্বার্থ রক্ষার কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের করের অর্থে পরিচালিত সংসদে কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে চরিত্রহননের সংস্কৃতির স্থান থাকা উচিত নয়।
সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি সংসদীয় চর্চায় দায়িত্বশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গঠনমূলক সমালোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষের মতপার্থক্য থাকাটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। তবে মতভেদ কখনোই শত্রুতায় পরিণত হওয়া উচিত নয়। সরকারের ভালো উদ্যোগে বিরোধী দল সমর্থন দেবে, আবার জনস্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত এলে গঠনমূলক সমালোচনাও করবে।
তিনি সংসদকে একটি চলমান যানবাহনের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সরকারি ও বিরোধী দল এই ব্যবস্থার দুটি চাকা। একটি দুর্বল হয়ে পড়লে পুরো গণতান্ত্রিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অতীতের সংসদীয় কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ব্যক্তিকে খুশি করতে গান, কবিতা বা অতিরঞ্জিত প্রশংসার যে সংস্কৃতি একসময় দেখা গেছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সংসদের মূল্যবান সময় জনগণের কল্যাণে ব্যয় হওয়া উচিত, ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণায় নয়।
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; একটি দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ দলিল। তিনি অর্থমন্ত্রীকে স্বল্প সময়ের মধ্যে বাজেট প্রণয়নের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যেকোনো বাজেটেই সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। তাই বিরোধী দলের দায়িত্ব হচ্ছে বাজেটের দুর্বল দিকগুলো তুলে ধরা এবং জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া।
বাজেট বাস্তবায়নে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যার কথাও তুলে ধরেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জুলাই-জুন অর্থবছরের কারণে উন্নয়ন প্রকল্পের বড় অংশ শেষ মুহূর্তে বাস্তবায়নের চেষ্টা হয়, যা অপচয় ও অনিয়মের ঝুঁকি বাড়ায়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তিনি অর্থবছরকে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, বাজেট অনুমোদনের পর এর সফল বাস্তবায়নের দায়িত্ব মূলত সরকারি প্রশাসনের ওপর বর্তায়। তাই জনগণের অর্থের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক দক্ষতা ও জবাবদিহি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং রাজনৈতিক সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী ব্যক্তিদের স্মরণ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থে বিভেদ ভুলে দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক রাজনীতির চর্চার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা।