বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (বাজেট অধিবেশন)-এর ১৮তম কার্যদিবসের বক্তব্যে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান- ছবি: সংগৃহীত
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, বাস্তবসম্মত এবং ভবিষ্যতমুখী বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই বাজেটের মূল লক্ষ্য অর্থনীতিকে একটি টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং জনগণের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনা।
সোমবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে সামনে রেখেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি জানান, অতীতের নানা সংকট ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সরকার বাস্তবসম্মত নীতি গ্রহণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।
তিনি বলেন, বাজেট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ৬১টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক ও কর প্রত্যাহার করা হয়েছে, যার ফলে বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায়নি এবং সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে উন্নয়ন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
কৃষি খাতের উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের সেচব্যবস্থা উন্নত করতে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হবে।
পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের মহাপরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে গত তিন মাসে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
কৃষকদের জন্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ১৩ লাখ কৃষকের কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। পাশাপাশি চালু করা হচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’ যার মাধ্যমে কৃষকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।
তরুণদের কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল অর্থনীতি প্রসারে চলচ্চিত্র, সংগীত, ওটিটি, গেমিং, ফ্যাশন, সফটওয়্যারসহ বিভিন্ন খাতকে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’র আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে খেলাধুলাকে সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে জাতীয় সম্মানী কাঠামো চালু এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় ‘স্পোর্টস’ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা সহজ করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা বিভিন্ন সরকারি সেবা দ্রুত ও সহজভাবে গ্রহণ করতে পারবেন।
জ্বালানি খাতের সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাস্তবমুখী পরিকল্পনা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে দেশের অর্থনীতি নতুন গতিতে এগিয়ে যাবে এবং বাজেটের সুফল সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছাবে।