বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন -ছবি : সংগৃহীত
আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নকল কিংবা প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেছেন, কোনো শিক্ষার্থীর কাছে নকল পাওয়া গেলে তাকে ডিটেনশনে নেওয়া হবে বা আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কেন্দ্র প্রধানকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে আগের মতো প্রকাশ্য নকলের প্রবণতা না থাকলেও নকলের ধরন বদলে গেছে। প্রযুক্তি ও কৌশলের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখন নকল ও প্রশ্নফাঁসের ঝুঁকিও নতুন রূপে দেখা দিচ্ছে। এ কারণেই পুরোনো ‘পরীক্ষা আইন’ সংশোধন করে বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এখন আর নকল নেই এমনটা বলা যাবে না। নকলের রূপ পরিবর্তন হয়েছে। তাই পুরোনো পরীক্ষা আইন পরিবর্তন করা হয়েছে। পরীক্ষার হলে কোনো শিক্ষার্থীর কাছে নকল পাওয়া গেলে তাকে ডিটেনশনে বা আইনের আওতায় আনা হবে। একইভাবে কোনো কেন্দ্রে নকল হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, নকল ও প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি কেন্দ্র সচিব, প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রের শৃঙ্খলা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তার ভাষায়, নকল-প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আইন সংশোধনের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে যে কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, সংসদে আগের পরীক্ষা আইন সংশোধন করে বর্তমান সময়ের চাহিদা ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। সংশোধিত আইনে পরীক্ষাকেন্দ্রে অনিয়ম, নকল, প্রশ্নফাঁস কিংবা এসব কাজে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুযোগ আরও সুস্পষ্ট করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু পরীক্ষার্থী নয় পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক, কেন্দ্র সচিব ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার এই ঘোষণা পরীক্ষাকেন্দ্রভিত্তিক অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে বড় বার্তা হিসেবে কাজ করবে।
আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সামনে রেখে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষার পরিবেশ, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের করণীয় এবং আইনগত দায়বদ্ধতা নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত কেন্দ্র সচিবদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী সুষ্ঠু পরীক্ষা আয়োজনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর আক্তারুজ্জামান এবং বোর্ড সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই বার্তা থেকে স্পষ্ট হয়েছে, আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সরকার কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চায় না। নকল ও প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে কেন্দ্রভিত্তিক নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থাও আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ফলে শুধু পরীক্ষার্থী নয় কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে।